পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসকের দফতরের দেওয়াল সেজে উঠছে সুন্দর পট চিত্রে
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসকের দপ্তরের দেওয়াল সেজে উঠছে সুন্দর পট চিত্রে । করোনা আবহে লক ডাউনের টানা ৬ মাস সেভাবে কোনো কাজ ছিল না পিংলার নয়া গ্রামের পট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা ২৪৪ টি পটুকার পরিবারের ।
তাঁরা জেলা শাসক রশ্মি কমলের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।তিনি তাঁদের দুদর্শার কথা মাথায় রেখে তাঁদের অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন । সেইমতো জেলা কালেক্টরেট এর বিশাল দেওয়াল তাঁদের সামনে খুলে দেন পট চিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য । গত একমাস ধরে কাজ করে চলেছেন পিংলার নয়া গ্রামের পটুকার মনু চিত্রকর ও বাহাদুর চিত্রকর । কয়েক ধাপ সিঁড়ি পেরোলেই দুপাশের দেওয়ালে চোখ পড়লেই চোখ জুড়িয়ে যাবে ।
বামদিকের দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে কৃষ্ণলীলা । কৃষ্ণের গোকুলে বেড়ে ওঠা থেকে মাখন চুরি , রাধার সঙ্গে খুনসুটি সব ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ১০০ টি ছবির মধ্যে দিয়ে যেগুলি মূল ছবিকে ঘিরে রেখেছে ।
একই ভাবে ডানদিকের দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে চন্ডি-মঙ্গল । কখনো দেবী চন্ডি রণচন্ডি মূর্তি ধারণ করে মহিষাসুরকে বধ করছেন । আবার কখনো গৃহস্থের উঠানে পুজো পাচ্ছেন । এখানেও মূল ছবিকে ঘিরে ছোট ছোট ১০০ টি ছবি দিয়ে চন্ডি মঙ্গল কাব্য ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ।
পট চিত্র যেভাবে ভেষজ রঙ দিয়ে আঁকা হয় এখানে দেওয়ালে সেসব উঠে যাবে তাই রাসায়নিক রঙের ওয়েদার কোট ব্যবহার করা হচ্ছে ।ধুলো , ময়লা জমলে জল দিয়ে ধোয়া যাবে ।
মনু চিত্রকর জানান , এই কাজ পেয়ে তাঁরা খুশি । রাজ্য সরকার তাঁদের কথা ভেবেছে। গ্রামের বাকি পট শিল্পীরাও একই কাজ বিডিও অফিস ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে ফুটিয়ে তুলবেন । পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার
জেলা শাসক রশ্মি কমল জানান , লক ডাউনে পট শিল্পীরা খুব খারাপ অবস্থায় ছিলেন । এখন তাঁদের কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে । উপযুক্ত পারিশ্রমিক তাঁরা পাবেন ।

Post a Comment