শীতের সন্ধ্যায় আদি অকৃত্রিম আদিবাসী নাচের মোহময় পরিবেশে ডুব দিতে চান? তাহলে এই শীতে ঘুরে আসুন বিষ্ণুপুর
দি নিউজ লায়ন; দিন বদলাচ্ছে। দ্রুত বদলে যাওয়া সময়ে মহার্ঘ হয়ে উঠছে সময়। জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি আমরা সবাই। অনির্দিষ্টের প্রতি এই ক্লান্তিকর যাত্রা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে হলে একবার আসন্ন শীতে ঘুরে আসুন প্রাচীন মল্ল রাজধানী বিষ্ণুপুরে। যেখানে ইতিহাসের গন্ধ মেখে আপনার জন্যই অপেক্ষা করে আছে শীতের সন্ধ্যার আদিবাসীদের আদি অকৃত্রিম নাচের মোহময় আসর।
অফিসিয়ালি বাংলায় এখন হেমন্ত কাল। কিন্তু এই হিমেল হেমন্তর হাত ধরেই গুটি গুটি পায়ে দক্ষিনবঙ্গে এসে পড়েছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যে নামতেই গায়ে তুলতে হচ্ছে গরম জামা কাপড়। এমন দিনে পায়ে সরষে থাকা বাঙালি কি বসে থাকতে পারে নিজের ঘরে? অথচ করোনা যেন পায়ে পরিয়ে দিয়েছে বেড়ি। এই অবস্থায় দূরে বেড়াতে যাওয়া যাদের না পসন্দ তাঁরা উইক এন্ডে একটু ঘুরে আসতেই পারেন প্রাচীন মল্ল রাজধানী বিষ্ণুপুরে। শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে বিষ্ণুপুরের প্রাচীন টেরাকোটার মন্দিরে মন্দিরে ঘুরতে ঘুরতে সুর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়লে চলে আসুন সরকারি ট্যুরিস্ট লজ চত্বরে।
সেখানে আপনার জন্যই অপেক্ষা করে আছে এক মোহময় সন্ধ্যা। কাঁচা শাল পাতা নিপুণ ধাঁচে বুনে তৈরী করা বিশেষ পোষাক পরা আদিবাসী নারী পুরুষদের ধামসা মাদলের তালে তালে নাচ নিশ্চিত ভাবেই আপনাকে পৌঁছে দেবে এক মোহময় জগতে। এমন আদি অকৃত্রিম আদিবাসী সংস্কৃতির আঙিনায় ঘুরে বেড়ানো বাড়তি পাওনা বলেই মনে করছেন পর্যটকরা। বিষ্ণুপুরে বেড়াতে আসা সুতপা গাঙ্গুলি ও সমর্পিতা ব্যানার্জী বলেন, বিষ্ণুপুরে বেড়াতে এসে এমন একটা সন্ধ্যা উপহার পাবো ভাবিনি। আদিবাসী সংস্কৃতির স্বাদ পাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সাথে কোথাও যেন আমরা একাত্ম হওয়ার সুযোগ পেলাম। বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক অনুপ কুমার দত্ত বলেন, পর্যটকদের একটু ভিন্ন ধরনের সংস্কৃতির স্বাদ দিতেই সরকারি উদ্যোগে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মঞ্চে রাঢ় বাংলার লোকায়ত বিভিন্ন সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা হবে।

Post a Comment