ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দম বন্ধ হয়ে ম্যাচটি জিতেছিল নিউজিল্যান্ড
দি নিউজ লায়ন; প্রায় আট মাস পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টির প্রথমটিতে ৫ উইকেটের ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডের ইডেন পার্ক যেন ক্রিকেটীয় নাটকের মঞ্চ। এই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে কিউরিরা যতবারই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছে ততবারই বিশ্ব সাক্ষী হয়েছে কোননা কোন ঘটনার। ২০০৬ সালে এখানেই প্রথম বোল আউট ম্যাচ খেলেছিল এই দুই দল। এরপর ২০০৮ এ প্রথম সুপার ওভার। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
দুর্দান্ত ব্যাটিং, তিনবার বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, ডার্ক লুইস পদ্ধতি আর ১ রানের ব্যবধানে পাঁচ পাঁচটি উইকেটের পতন। প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত ১৬ ওভারে ১৮০ রান তোলে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ডার্ক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে কিউইদের সামনে ১৭৬ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। তবে ৪ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই সহজ জয় পায় কিউইরা।
এদিন টস জিতে কিউইরা প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনারের ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেয়। আন্দ্রে ফ্লেচার ও ব্রান্ডেন কিং ক্রিজ গেইলের না থাকার অভাব বুঝতেই দেননি। এই জুটি মাত্র তিন ওভার ১ বল খেলে সংগ্রহ করে ৫৮ রান। তবে এরপরই ম্যাচে নাটকের শুরু। লুকি ফারগুসন ও টিম সাউদির বোলিং তোপে ১ রানের ব্যবধানে পাঁচ পাঁচটি উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তবে বেশ চাপে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রক্ষা করেন কাইরন পোলার্ড। তার ৩৭ বলের ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচ ডার্ক লুইস পদ্ধতিতে পরিণত হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের সামনের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ ওভারে ১৭৬ রানের। বিশাল বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মার্টি গাপটিলকে হারায় কিউইরা। মাত্র পাঁচ রান করে প্যাভিলনে ফিরে যান তিনি। এরপর দলীয় ৩৪ রানে টিম সেইফার্টের উইকেট তুলে নেন ওশান থমাস। আউট হওয়ার আগে তিনি করেছিলেন ১৭ রান।
ডেভন কনওয়ে এবং গ্লেন ফিলিপস এরপর দলের প্রাথমিক ধাক্কা সামলান। তবে ফিলিপস (২২) ও রানের খাতা না খুলেই রস টেইলরের বিদায়ের পর আবারও খেলা চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারালে জয় নিয়ে সংশয়ে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে সপ্তম ওভারে মাঠে নামা জিমি নিশাম কনওয়েকে সঙ্গে নিয়ে ৭৭ রানের এক দারুণ জুটি গড়েন। তবে দলীয় ১৪০ রানে কনওয়ে (৪১) ফিরলেও দলের জয় ব্যহত হয়নি। সাতে ব্যাট করতে নামা মিচেল স্যান্টনারের ১৮ বলে ৩১ রানের মিনি টর্নেডোতে শেষ পর্যন্ত ৪ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তুলে ফেলে কিউইরা।

Post a Comment