বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয় দফায় শকুন ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হল
দি নিউজ লায়ন ; বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয় দফায় মুক্ত আকাশে শকুন ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। রবিবার আটটি হোয়াইট ব্যাকড ভালচার প্রজাতির শকুন রিলিজ এভিয়ারিতে নিয়ে যাওয়া হল। এখন রিলিজ এভিয়ারিতে কিছুটা খোলামেলা থাকতে এদের অভ্যস্ত করা হবে। আগামি জানুয়ারি মাসে এদের মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার এই উপলক্ষে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে এসেছিলেন রাজ্যের বন্য প্রান বিভাগের প্রধান মুখ্য বনপাল বিনোদ কুমার যাদব। তার হাত দিয়েই এদিন শকুনের সাধারন কুঠুরি থেকে আট শকুনকে রিলিজ এভিয়ারিতে স্থানান্তরিত করা হয়। জানা গিয়েছে রিলিজ এভিয়ারিতে নিয়ে যাওয়া দুর্লভ এই আট হোয়াইট ব্যাকড ভালচার প্রজাতির শকুনের দুটো বিভিন্ন জায়গায় থেকে উদ্ধার করা শকুন। আর বাকি ছয়টি হোয়াইট ব্যাকড ভালচার রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্রেই জন্ম নেওয়া শকুন।
উল্লেখ্য এই প্রথম প্রজনন কেন্দ্রে জন্ম নেওয়া কোন শকুনকে মুক্ত আকাশে ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজাভাতখাওয়ায় প্রথম দফায় যে শকুন খোকা আকাশে ছাড়া হয়েছিল সেগুলো সবই ছিল বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা শকুন। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা শুভংকর সেনগুপ্ত বলেন, " এবারও আমরা স্যাটেলাইট ট্যাগ লাগিয়ে এই আট শকুনকে আকাশে ছাড়ব। রবিবার তাদের রিলিজ এভিয়ারিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রথম দফার পর এবার দ্বীতিয় দফায় মুক্ত আকাশে শকুন ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হল।
সব ঠিক থাকলে জানুয়ারিতে এই আট শকুনকে খোলা আকাশে ছেড়ে দেওয়া হবে।" উল্লেখ্য গত বছর এই শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে ছয় শকুনকে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশন ট্যাগ লাগিয়ে খোলা আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আকাশে উড়ে যাওয়া সেই শকুনগুলোর গতিবিধি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য পাচ্ছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প। ছেড়ে দেওয়া সেই সব শকুনেরা খোলা আকাশে অন্যান্য শকুনদের সাথে মিশে গেছে।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন লুপ্তপ্রায় শকুনের শকুনের সংগে মিশে প্রকৃতিতে বেশ ভালোই রয়েছে তারা। আর সেখান থেকে উতসাহিত হয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প আরো আট শকুনকে খোলা আকাশে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বন দফতর। জানা গিয়েছে গোটা পৃথীবি থেকেই হারিয়ে যাচ্ছে শকুন। শকুনের বিলুপ্তির কারনে গোটা বিশ্বে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আর সেই কারনেই পৃথীবিতে শকুন বাচিয়ে রাখার নানান উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০০৬ সনে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শকুন প্রজনন কেন্দ্রে চালু হয়।
বিভিন্ন জায়গা থেকে বিলপ্তি প্রায় শকুন উদ্ধার করে এই প্রজনন কেন্দ্রে রেখে তাদের বংশ বৃদ্ধি করা শুরু হয়। খুশির খবর বর্তমানে রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্রে চার প্রজাতির মোট ১৩০ টি শকুন রয়েছে। এই শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে প্রথম দফায় ছয় শকুনকে আকাশে ছাড়া হয়েছে। পরের দফায় আরও আট শকুনকে খোলা আকাশে ছাড়া হবে বলে জানিয়েছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প কতৃপক্ষ।

Post a Comment