হবিবপুরে শৃঙ্খলিত কালী পুজো ঘিরে নানা অলৌকিক কাহিনী - The News Lion

হবিবপুরে শৃঙ্খলিত কালী পুজো ঘিরে নানা অলৌকিক কাহিনী




দি নিউজ লায়ন ;   অমাবস্যার রাতে পুজোর শুরুতেই চক্ষুদানের সময় জ্বলজ্বল করে ওঠে কালী মায়ের মূর্তি। আর সে সময় শুরু হয় পাঠা বলি। দেবী মূর্তি সেই মুহূর্তের নাকি সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আর তার জন্যই শিকলে বেঁধে রাখা হয় কালীমাতার মূর্তিকে। প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো হবিবপুরের মানিকোড়া শিকলে বাঁধা কালীমাতার পূজা আজও ওই প্রাচীন নিয়ম মেনে হয়ে আসছে। 


কালীপুজোর রাতে দেবীমুর্তির আলৌকিক এই দৃশ্য দেখতে উপচে পড়ে ভক্তদের ভিড়। কিন্তু এবারে করোনার কারণে পরিস্থিতি আলাদা। ভক্তদের ভিড় ঠেকাতে মন্দির প্রাঙ্গনের অনেকটা দূরেই বাঁশের ব‍্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এমনকি এই পূজাকে ঘিরে সাতদিন ধরে চলে মেলা। কিন্তু এবারে সেই মেলা বন্ধ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই পুজোর প্রস্তুতি নিয়েছে উদ্যোক্তারা। মালদার আদিবাসী অধ্যুষিত হবিবপুর ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতের রয়েছে মানিকোড়া গ্রামের শিকলে বাঁধা কালিমাতার এই মন্দিরটি। কথিত আছে, পুজোর চক্ষুদানের সময় কালীমাতা সামনে প্রথম পাঁঠা বলি হয়। 


তখন দেবী মা নাকি সামনের দিকে ঝুঁকে পরে। দেবীমূর্তি যাতে কোনরকম ক্ষতি না হয়, তারজন্যই ভক্তেরা দেবী মা'কে পিছন থেকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। এই দৃশ্য দেখতে পুজোর দিন রাতেই দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তেরা আসেন মায়ের দর্শন পেতে। মন ভরে মানত করলে মনস্কামনা পূরণ হয় বলেও ভক্তদের দাবি। কালীপুজোর রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কয়েক হাজার পাঁঠা, পায়রা এবং চাল কুমড়া বলি হয়। 


বলি দেওয়ার হাড়িকাঠের সামনে মশাল জ্বালিয়ে এই বলি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। আর সেই প্রাচীন নিয়ম মেনেই যুগ যুগ ধরে শিকলে বাঁধা কালী মাতার পুজো হয়ে আসছে মানিকোড়া গ্রামে। এলাকার অনেক প্রবীণেরা জানিয়েছেন , বহু বছর আগে ডাকাতদের হাতে শুরু হয় মানিকোড়া কালীমাতার পূজা। এরপর সেই পুজো চলে যায় এলাকার এক জমিদারের তত্ত্বাবধানে। তিনি প্রয়াত হওয়ার পর স্থানীয় গ্রামবাসীরা উদ্যোগ নিয়ে পূজা শুরু করেন। তাদের উদ্যোগ এই মানিকোড়া শ্যামা কালী পূজা মন্দির গড়ে উঠেছে। 


গঠিত হয়েছে মানিকোড়া সার্বজনীন পূজা কমিটি। সংশ্লিষ্ট কমিটির এক কর্তা  সজল রায় জানিয়েছেন, দেবীমুর্তির পাশে রয়েছে ডাকিনী , যোগিনীর মূর্তি। বলি সময় মায়ের চক্ষুদান করা হয়। তখন দেবি মাতা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। এই আলৌকিক দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। তাই কালীমাতার সামনে সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।


 স্থানীয় গ্রামবাসীদের আর্থিক সহযোগিতায় এই পুজো হয়ে আসছে। মানিকোড়া কালী মাতার পুজো ঘিরে নানান পৌরাণিক গল্প কথিত রয়েছে। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল এবং শনিবার করে মানিকোড়া কালী মন্দিরে পুজো হয়। তখনও পাঠা বলি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। যাদের মনস্কামনা পূরণ হয়, সেইসব ভক্তেরাই অমাবস্যা এবং প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এসে ধুমধাম করে দেবিমাতার পূজা সামিল হন।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.