বিষহরি মাতা ঠাকুরানীর পুজোয় অংশ নেয় মুসলিমরাও
-বিষহরি মাতা ঠাকুরানীর পুজো ঘিরে সম্প্রীতির বাতাবরণ। হিন্দুদের পুজো হলেও মুসলমানরা ভক্তিভরে পুজো করে থাকেন। দীর্ঘ প্রায় ৫০০ বছর ধরে এই রীতি মেনে আসছেন গাজোল ব্লকের ময়না এলাকার বাসিন্দারা। শুধু গাজোল নয়, জেলার অন্যান্ত প্রান্ত থেকেও উভয় সম্প্রদায়ের মানুষেরা ভিড় জমিয়ে থাকে এই পুজোয়। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে পুজো। প্রথা মতো ২ কার্তিক অর্থাৎ সোমবার ছিল পুজোর শেষ দিন।
এদিন ছাগ, পায়রা ও হাঁস বলির মাধ্যমে শেষ হয় পুজো। পুজোকে ঘিরে বসে বিশাল মেলা। যদিও এবার করোনা আবহে মেলার ভিড় এড়াতে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম থেকেই এই পুজো হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের পুজো হিসেবে হয়ে আসছে। ফলমূল মিষ্টি মিষ্টান্নর সাথে এই পুজোর অন্যতম ভোগ হাঁসের ডিম এবং বাতাসা। মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা ভোগ হিসেবে মাকে হাঁসের ডিম নিবেদন করেন। এছাড়াও যাদের মনষ্কামনা পূর্ণ হয় তারা অনেকে এই মন্দিরে মনসা মূর্তি দান করেন। সেসব মূর্তির পুজো হয়ে থাকে। এবার ২১১টি মূর্তির পুজো হচ্ছে এখানে।
উদ্যোক্তারা জানান, মূর্তির সংখ্যা আরও বাড়ে। এবার করোনা আবহে কিছুটা কম। কথিত আছে, জমিদারি পুজো হলেও পরবর্তী কালে এলাকায় রাজবংশী সম্প্রদায়ের হাতে দায়িত্ব যায় পুজোর। সেই ধারা আজও বিদ্যমান। পুজো কমিটির সম্পাদক সুমন্ত সরকার জানান, ‘এখানকার দেবী খুব জাগ্রত। ভক্তরা যে মানত করেন, তা পূরণ হয়ে থাকে। এবার পুজো নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হলেও করোনা আবহে মেলার দোকানের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।’

Post a Comment