পুজোর মুখে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন আর্থিক সুযোগ সুবিধা ও ছুটি সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা পুনরায় চালুর দাবিতে শুক্রবার থেকে লাগাতার ৭২ ঘন্টা ধর্মঘট শুরু করল বাঁকুড়ার মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিকা শ্রমিকরা। আজ সকাল থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজে যোগ না দিয়ে সমস্ত ঠিকা শ্রমিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি গেটে হাজির হয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। লাগাতার এই ধর্মঘটের জেরে পুজোর মুখেই বড়সড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে এ রাজ্য সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন পরিচালিত মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুর্ব ভারতের বৃহত্তম তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আটটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩৪০ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্রে কমবেশি সাড়ে তিন হাজার ঠিকা শ্রমিক কাজ করেন।
এই ঠিকা শ্রমিকরাই এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান চালিকা শক্তি। এই ঠিকা শ্রমিকরা ২০১৭ সালের আগে পর্যন্ত নির্দিষ্ট হারে হাউস রেন্ট, বোনাস, হ্যাজার্ড আলাউন্স, নাইট আলাউন্স, ওভারটাইম, এক্সট্রা পে, হলিডে, সি এল সহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করতেন । অভিযোগ ২০১৭ সালের মার্চ মাসের পর থেকে ঠিকা শ্রমিকদের এই সব সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেয় ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে এই সুযোগ সুবিধাগুলি পুনরায় চালুর দাবিতে বারবার আন্দোলনে নেমেছেন ঠিকা শ্রমিকরা। কিন্তু ডিভিসি ও মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তরফে বারবারই মিলেছে শুকনো আস্বাস। আজ পর্যন্ত সেই সুযোগ সুবিধা পুনরায় চালু না হওয়ায় আজ থেকে কাজে যোগ না দিয়ে লাগাতার ধর্মঘটের পথে হাঁটে ঠিকা শ্রমিকরা। আন্দোলনকারী ঠিকা শ্রমিক শান্তিময় দাস ও গৌর কুন্ডু বলেন, ডিভিসি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দিক থেকে আমাদের বঞ্চিত করে চলেছে।
২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত পাওয়া একাধিক সুযোগ সুবিধা কাটছাট করে দিয়েছে। এই অবস্থায় আমরা বারবার আন্দোলন করেছি। এবার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমাদের দাবিপূরণ না করলে আমাদের আন্দোলন দীর্ঘায়িত হবে। এদিকে ঠিকা শ্রমিকরা লাগাতার ধর্মঘটে যাওয়ায় এবার মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। এর ফলে ইসিএল, রেল সহ বিভিন্ন শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখে দিতে পারে। মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গ্রিডের মাধ্যমে রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন নিগমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় পুজোর আগে সমস্যা দেখা দিতে পারে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিসেবাতেও।
মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রবীর কুমার চাঁদ বলেন, প্রাথমিক ভাবে কেন্দ্রের স্থায়ী কর্মী ও আধিকারিকরা পরিস্থিতি সামাল দিলেও ঠিকা শ্রমিকদের ধর্মঘট লাগাতার চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। সেক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে। ঠিকা শ্রমিকদের সব দাবি মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিষয়গুলি নিয়ে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ ভাবনা চিন্তা করছে। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

Post a Comment