পুজোর বাজারে উপচে পড়া ভিড়, বাড়ছে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা
পুজোর বাকি আর মাত্র ৭ দিন। এই পরিস্থিতিতে পুজোর কেনাকাটা করতে করোনা-বিধিকে কার্যত হেলায় উড়িয়ে ভিড় উপচে পড়ল শহরের বাজারগুলিতে। নিউ মার্কেট থেকে হাতিবাগান মানুষের তিল ধারণের জায়গা নেই। সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং উপেক্ষা করে সব দোকানগুলোতে গিজগিজ করছে ভিড়। শহরবাসীর আতঙ্ক যেন চোখের নিমেষে উধাও।
শুধু কলকাতাতেই নয়, এই ভিড় লখ্য করা গেল রাজ্যের সর্বত্র। মুখে পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে প্রতিদিনই একশোর কাছাকাছি বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। বাজারে ভিড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এর পরিণতিতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে জেলার সদর শহর বর্ধমান সহ অন্যান্য পৌরশহর ও তার আশপাশ এলাকাতেও আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে যত দিন যাচ্ছে ততই বাসিন্দাদের মধ্যে বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এখন শেষ পর্যায়ের পুজোর বাজার চলছে। শপিং মলগুলিতে ভিড় উপচে পড়ছে। বাজারে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে চলছে কেনাকাটা। অনেকেই মাস্কে মুখ ঢাকছেন না। বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে দ্রুত সংক্রমণ এক দেহ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেনাকাটা করতেই যদি এমন ভিড় হয় তবে পুজোর চার দিন কী হবে! ভিড় দেখে চিন্তিত কলকাতা পুলিশের কর্তারা। যদিও সপ্তাহ খানেক আগেও শপিং এর জন্যে এত ভিড় দেখা যায়নি। এই বছর পুজোর বাজার কী হবে তা নিয়েও চিন্তায় ছিলেন অনেক ব্যবসায়ী। তবে এখন ছবিটা সম্পূর্ণ অন্য।
সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি শিকেয় তুলে আপাতত পুজোর বাজারের পথে পা বাড়িয়েছে আবেগপ্রবণ বাঙালি। ধীরে ধীরে পুজোর শপিং জমছে শহরে। গড়িয়াহাট কিংবা নিউ মার্কেট চত্বরে দুপুর থেকে জনসমাগম বাড়তে থাকে। অনেকেই জামা কাপড়ের সঙ্গে ম্যাচিং করে গয়নাগাটি কিনছেন। অনেকের মুখে সঠিকভাবে মাস্কও ছিল না। কেনাকাটায় মশগুল হয়ে অনেকেরই মাস্ক নেমে এসেছে থুতনিতে, কারও বা মাস্ক ঝুলছে কান থেকে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন 'পুজোর বাজার চলবে। না-হলে লোকের হাতে পয়সা আসবে কী করে? তবে প্রত্যেকে যেন মাস্ক পরে বাজারে যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।' তবে পুজোর কেনাকাটায় অনেকে সেই মাস্কও ব্যবহার করছেন না। কিন্তু এমন বেপরোয়া ভিড় চলতে থাকলে পুজোর পরে সংক্রমণের হার অনেকটায় বেড়ে যাবে।

Post a Comment