কন্যা সন্তানকে কুপিয়ে খুন, আটক মা
দি নিউজ লায়ন ; নিছক কন্যা সন্তান বলেই কি পারিবারিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নিশংস ভাবে তাকে কুপিয়ে খুন করলো খোদ জন্মদাতা মা।সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতেই হন্যে পুলিশ। শুক্রবার এমনই এক আজব ঘটনার সাক্ষী থাকলো বহরমপুর সংলগ্ন সারগাছি রঘুনাথপুর এলাকা। এদিন নিজের মাস দেড়েকের কন্যা সন্তানকে বাথরুমের মধ্যে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।ঘটনায় অভিযোগের তীর ঐ সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের মা খোদ চৈতালি মন্ডল এর দিকেই।
এই নারকীয় ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত চৈতালি মন্ডল কে আটক করে বহরমপুর থানার পুলিশ।এ ব্যাপারে মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার কে শবরী রাজকুমার বলেন," এই মুহূর্তে এখনই খুনের ঘটনার কারণ পরিষ্কার নয়, তবে সেক্ষেত্রে কোন পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে ওই গৃহবধূ তার নিজের কন্যা সন্তানকে খুন করেছেন কিনা বা তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন কিনা সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে"।
প্রসঙ্গত, বছর কয়েক আগে দফরপুর এলাকার চৈতালি মন্ডল এর সঙ্গে পেশায় রাজমিস্ত্রি রঘুনাথপুর এর বিভাস মন্ডল এর সঙ্গে সামাজিক ভাবে বিয়ে হয় চৈতালির। এই পর্যন্ত সব ঠিক থাকলেও সম্প্রতি নানান কারণে চৈতালির মধ্যে চাপা মানসিক যন্ত্রণা ছিল বলেই প্রতিবেশীরা জানান।যদিও চৈতালি প্রকাশ্যে কোনদিন পাড়া-প্রতিবেশী কাছে কিছু খোলসা করে বলেননি।
এরইমধ্যে মাস দুয়েক আগে সন্তান সম্ভবা অবস্থায় চৈতালি তার বাবার বাড়ি দফরপুরে যান। সেখানেই একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ওই গৃহবধূ। এর পরেই সেখান থেকে চৈতালি ফিরে আসে তার শ্বশুর বাড়ি রঘুনাথপুর এর। এদিকে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়ার জন্য সে কোন ভাবে শ্বশুরবাড়িতে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যাচ্ছে না স্পষ্ট ভাবে বলেই তদন্তকারীরা জানান।
এদিকে এই দিন রঘুনাথপুরে বাড়িতে টয়লেটের মধ্যে থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই কন্যাসন্তানের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুরো ঘটনায় বাকরুদ্ধ চৈতালি। সব মিলিয়ে এই রহস্য উদঘাটনে আদা জল খেয়ে পড়েছে বহরমপুর থানার পুলিশ।

Post a Comment