বন্ধ হয়ে গেল ঢাকার বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্স
ঢাকা প্রতিনিধি : মহামারি করোনাভােইরাস নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের আর সব সিনেমা হলের মতো আপাতত বন্ধ রয়েছে বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্স। গেল ২০ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ ছিল স্টার সিনেপ্লেক্সের সবগুলো শাখায়। কখন খুলবে হল ও সিনেপ্লেক্স এই নিয়ে যখন চারদিকে মিটিং-মিছিল ও অপেক্ষা তখন জানা গেল মন খারাপের এক খবর।
বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে আর কখনোই খুলবে না স্টার সিনেপ্লেক্স। স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঢাকাবাসীদের বিনোদনের জনপ্রিয় এই মাধ্যমটি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্টার সিনেপ্লেক্সের বিপণন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ জানান, বেদনাদায়ক হলেও ঘটনাটি সত্যি যে বসুন্ধরা সিটিতে আর স্টার সিনেপ্লেক্স থাকছে না।
কারণ বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের কর্তৃপক্ষ আমাদের নোটিশ দিয়েছে সিনেপ্লেক্স বন্ধ করার জন্য। তাদের নতুন পরিকল্পনা রয়েছে শপিংমল নিয়ে। বাড়িওয়ালা যদি নোটিশ দেন চলে যাওয়ার জন্য তাহলে তো ভাড়াটিয়ার আসলে কিছু করার থাকে না। তবে আমাদের অন্য সবগুলো শাখাই চালু থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘বসুন্ধরা সিটি দিয়েই আমরা যাত্রা করেছিলাম। ১৮টি বছর কেটেছে এখানে। দেশ-বিদেশের অনেক বড় বড় তারকা, গুণী মানুষেরা এখানে পা রেখেছেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা এই আঙিনাটি মুখরিত করে রাখতেন আড্ডায়।
অনেক অনেক স্মৃতি আসলে। দেশের মানুষ সিনেপ্লেক্স বলতেই এই শপিংমলের স্টার সিনেপ্লেক্সকে বুঝতো। এমন একটি ভালোবাসার ঠিকানা বদলে ফেলা আমাদের জন্যও খুব কষ্টের এবং আবেগের। কিন্তু কিছু তো আসলে করার নেই। সিনেপ্লেক্সের অন্য যে শাখাগুলো রয়েছে সেগুলোতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই আমরা। সেখানেও আতিথেয়তা বা আন্তরিকতার অভাব থাকবে না।’
এই মুহূর্তে মহাখালীতে অবস্থিত এসকেএস (সেনাকল্যাণ সংস্থা) টাওয়ার, ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার (রাইফেল স্কয়ার) শপিংমলে স্টার সিনেপ্লেক্স চালু রয়েছে। মিরপুরের সনি সিনেমা হল ভেঙে যে শপিংমল করা হচ্ছে সেখানেও একটি শাখা চালু করতে যাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স। পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরে ষোলশহর ফিনলে স্কয়ার শপিংমলের সপ্তম তলায় ‘সিলভার স্ক্রিন’ নামেও একটি শাখা চালু আছে স্টার সিনেপ্লেক্সের।
শিগগিরই দেশের আরও বেশ কিছু শহরে শাখা চালুর কথাও ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০২ সালে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম ডিজিটাল এবং অত্যাধুনিক সুবিধাসংবলিত এই সিনেমা হলটি। এটি ঢাকাবাসীর তো বটেই, সারাদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়েছিল।
১৮ বছর ধরেই বসুন্ধরায় এই সিনেপ্লেক্স সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা করে যাচ্ছিল দেশি-বিদেশি সিনেমা প্রদর্শন করে। বিশেষভাবে বলা যায় হলিউডের বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আন্তর্জাতিক মুক্তির দিন অনেক বড় বাজেটের ছবি তারা মুক্তি দিয়েছে। এজন্য হলিউডপ্রেমী দর্শকের কাছে খুবই প্রিয় ছিলে স্টার সিনেপ্লেক্স।

Post a Comment