সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সাপ্তাহিক লকডাউনে জেলায় ঘরবন্দি মানুষ
দি নিউজ লায়ন ; সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সাপ্তাহিক লকডাউন এ জেলায় সর্বাত্মক চেনা ঘরবন্দির ছবি। আগের লকডাউন এর মতই শুক্রবার চলতি মাসের দ্বিতীয় সম্পূর্ণ লকডাউনে কড়া ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোলে কখনো লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করেছে পুলিশ কখনও বা কান ধরে উঠবস করানো হয়েছে অবাধ্য লকডাউন ভঙ্গকারীদের। উপযুক্ত কারণ বা নথি দেখাতে না পারায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
যদিও মোটের ওপর আগের চেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে লকডাউন সম্বন্ধে সচেতনতা বাড়ায় স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বেশিরভাগ জায়গাতে লকডাউন মেনেছে সাধারণ মানুষ। লকডাউন এর উপযোগিতা বুঝতে পেরেছে তারা। শুক্রবার ভোর থেকে সারাদিন রাস্তাঘাট শুনশান, গণপরিবহন নেই, দোকান- বাজার বন্ধ ছিল। প্রয়োজন ছাড়া পথে বেরোলে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। প্রতিটি জেলায় চলেছে নাকা তল্লাশি। কড়া পুলিশি নজরদারি।
উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনার একাংশ,মেদিনীপুর, বর্ধমান, কোচবিহারের মত কিছু জায়গায় লকডাউন অমান্য করার বিচ্ছিন্ন কিছু ছবিও ধরা পড়েছে। তবে প্রতি ক্ষেত্রেই অত্যন্ত দ্রুত এবং তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আগের সাপ্তাহিক সম্পূর্ণ লকডাউন এর মতই এদিনও দক্ষিণবঙ্গের 4 জেলা উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা, হাওড়া এবং হুগলিতে বাড়তি নজরদারি চালায় পুলিশ। এই 4 জেলার গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত রাস্তায় এমনকি গলি এবং ছোট রাস্তা গুলোতেও পুলিশের কড়া নজরদারি চলছে। রাস্তায় বেরোলেই উপযুক্ত কারণ দেখাতে হচ্ছে।কারণ দেখাতে না পারলে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
হাওড়া স্টেশন চত্বর, হাওড়া ব্রিজ, গোলাবাড়ি, কাজীপাড়া, শিবপুর, হাওড়া গ্রামীণের উলুবেড়িয়া, ডোমজুড়, উত্তর 24 পরগনার বারাসত, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল, মধ্যমগ্রাম, দক্ষিণ 24 পরগনার সোনারপুর, কুলতলি, জয়নগর, হুগলির শ্রীরামপুর, চন্দননগর সর্বত্র কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। দোকান- বাজার খোলা থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। অবাধ্য জনতাকে সামলাতে কোথাও পুলিশকে লাঠিপেটা করতে হয়েছে। কোথাও আবার কান ধরে উঠবস, কোথাও বা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে দেখা গিয়েছে।
গাড়ি বাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকেই নদিয়ার বিভিন্ন জায়গা শুনশান চিত্র উঠে এলো l সোমবার সকাল থেকে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, রানাঘাট, তেহট্ট, করিমপুর, চাকদহ, কল্যাণী শহরে লকডাউন চলছে। লকডাউনে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। দোকান বাজার সব বন্ধ রয়েছে। এলাকায় চলছে পুলিশের নজরদারি। লকডাউনে কড়া নাকা চেকিং চালাচ্ছে পুলিশ সকাল থেকে। স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন রাস্তা চত্বর শুনশান। রাস্তায় মোটরসাইকেল আরোহী কিংবা যারা রাস্তায় দেখা গিয়েছে তাদেরকে বৈধ কাগজ দেখাতে চাওয়া হচ্ছে যারা দেখাতে পারছেন না তাদের কে বাড়ি ফেরৎ পাঠানো হচ্ছে l
মেদিনীপুরে আবার লকডাউন অমান্য করে গোপনে ভাটিখানা চালানো হচ্ছে বলে খবর পেয়ে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে বিশাল বাহিনী নিয়ে অভিযান চালায়। পুলিশকে দেখে অনেকে আবার পাশের কংসাবতী নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। 20 জনকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মালদা ,কোচবিহার, মুর্শিদাবাদের কিছু জায়গায় লকডাউন ভেঙে বাজার বসায় তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।
বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। এই চার জেলার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে যেমন পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, বর্ধমান সর্বত্র পুলিশের কড়াকড়ি চোখে পড়েছে। লকডাউন অমান্য করার জন্য বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর- সর্বত্র সতর্ক ছিল পুলিশ। লকডাউন অমান্য হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কোচবিহারের লকডাউনভঙ্গ কারীদের 'সবক'শেখাতে অভিনব ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ। প্রশাসন এখানে লকডাউন ভেঙে যারাই বাইরে বেরিয়েছে তাদেরই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট যদি পজিটিভ আসে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো হয় কোয়ারেন্টিন সেন্টারে বা সেফ হোমে,আর যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে তাদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়।তবে দক্ষিণবঙ্গের মতোই উত্তরের জেলা গুলিতেও মানুষের সচেতনতা বাড়ায় লকডাউন ভাঙ্গার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।

Post a Comment