বাংকির হতে পারে জাতীয় রাজস্ব আয়ের বড় খাত - The News Lion

বাংকির হতে পারে জাতীয় রাজস্ব আয়ের বড় খাত





চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ;   বেসরকারি বাংকারিং হতে পারে জাতীয় রাজস্ব আয়ের আরও একটি বড় খাত।
সোমবার (১৪সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গুপ্ত খালস্থ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে  আমদানি করা দেশে প্রথমবারের মত শূণ্য দশমিক ৫ (০.৫) শতাংশ  সালফার কন্টেন্টযুক্ত সমুদ্রগামী জাহাজের  জ্বালানি তেল (আইএফও) গ্রহণ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপিসির চেয়ারম্যান (সচিব)  মো. সামছুর রহমান এ কথা বলেন।


বিপিসির চেয়ারম্যান  মো. সামছুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ২য় দক্ষিণ এশিয়া মেরিটাইম এন্ড লজিস্টিক ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইএমও রেগুলেশন অনুযায়ী সমুদ্রগামী জাহাজ ব্যবহারের জন্য দেশে মেরিন ফুয়েল মজুদ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দরসহ, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজগুলোর চাহিদা অনুযায়ী নতুন গ্রেডের জ্বালানি (বাংকার) প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।




তিনি বলেন,  আমদানি করা মেরিন ফুয়েলবাহী জাহাজ থেকে তেল খালাস কার্যক্রম মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।  আমদানি করা ১৪ হাজার ৯৪৬ দশমিক ৩১২ মেট্রিক টন মেরিন ফুয়েল তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির dedicated stronge tank এ মজুদ রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।



বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, বাংকার সরবরাহের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের জলসীমায় যাতায়াতকারী দেশি ও বিদেশি পাতাকাবাহী জাহাজে জ্বালানি সরবরাহের জন্য বাংকারিং নীতিমালার আলোকে তিন বিপণন কোম্পানি কর্তৃক তিনটি জেওসিএল, তিনটি এমপিএল এবং তিনটি পিওসিএল সর্বমোট  দশটি প্রতিষ্ঠানকে ডিলার হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের নিজস্ব জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রগামী জাহাজে বাংকার সরবরাহ করবে।






তিনি আরও বলেন, সরবরাহকৃত মেরিন ফুয়েলের মূল্য বিপিসির মূল্য নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ হতে পারে বাংকার সরবরাহ গ্রহণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রতিবেশি  দেশসমূহের বিভিন্ন বন্দরে বাংকার মূল্য পর্যালোচনা করে বিপিসি সর্বনিম্ন মার্জিন হিসেব করে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ করা হবে। আশা করা যাচ্ছে এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরসহ অন্যান্য বন্দর হতে বাংকার সরবরাহ বা বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
 

বাংলাদেশ বাঙ্কার সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান মজুমদার বলেন, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম  অরগানাইজেশান (আইএমও) ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে সমুদ্রগামী জাহাজে শূন্য দশমিক ৫ মাত্রার জ্বালানি সরবরাহ বাধ্যতামূলক করে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শূন্য দশমিক জ্বালানি (আইএফও) আমদানি করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। আগামী এক দশকের মধ্য বাংকারিং খাতটি পোশাক শিল্পের ন্যায় জাতীয় রাজস্ব খাতে অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপিসির পরিচালক(অপাঃ ও পরিঃ/বিপণন) সৈয়দ মেহদী হাসান, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক(বাঃ ও অপাঃ) মো. আবু হানিফ, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান, মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর ছাইফুল্লাহ-আল-খালেদ, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন আনচারী ও বাংলাদেশ বাঙ্কার সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের সহ -সভাপতি মহব্বত আলী চৌধুরী ও  সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক।






প্রসঙ্গত, শূণ্য দশমিক ৫ ( ০.৫) শতাংশ  সালফার কন্টেন্টযুক্ত ফার্নেস অয়েল সরবরাহের নিমিত্তে যমুনা,পদ্মা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড সমূহের সাথে বাংলাদেশ বাংকার সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের(বিবিএসএ ) সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহের সম্প্রতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।


প্রথম পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষরকারী ৯টি প্রতিষ্টান যথা পোর্টল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল(ওটি নিউ শাহ আমানত-১),মেসার্স ফ্রাংক ট্রেড(ওটি সুলতান শাহ),মেসার্স ওশান ফুয়েলস ইন্টারন্যাশনাল(ওটি মিক মাহী), মেসার্স এ আর করপোরেশন( ওটি আতিফা জাহান), মেসার্স  সী মেরিন ফুয়েল সাপ্লায়ার্স এন্ড কোং(ওটি নিউ সী কুইন এক্সেস-১), মেসার্স জিএল শিপিং লাইন্স (ওটি মিক হৃদয়-১), মেসার্স আল নূর করপোরেশন(ওটি কর্ণফুলী ডিলাক্স-৭),মেসার্স ওহাব সী মেরিন সার্ভিসেস কোং-(ওটি মিউচুয়াল এক্সপ্রেস) এবং মেসার্স খিজির(আ.) এন্টারপ্রাইজ (ওটি এসএমএস-১) ০.৫ % সালফার কন্টেন্টযুক্ত ফার্নেস অয়েল  বহন ও সমুদ্রগামী জাহাজে সরবরাহের অনুমতি পেল।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.