তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে তার বৈঠক ভবন নবরূপে সাজলো
দি নিউজ লায়ন ; সাহিত্য সম্রাট তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৫০ তম প্রয়াণ দিবসে তার বৈঠক ভবনকে নবরূপে সজ্জিত করে লাভপুর বাসীকে উপহার দিলো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বীরভূম জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিংহ নতুন বৈঠকখানার শুভ দ্বারোদ্ঘাটন করেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভিটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যিনি আছেন সেই উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় জানান, তারাশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের বৈঠকখানা টি তখনকার সময়ে মাটি এবং খড়ের চালা দিয়ে তৈরী হয়েছিলো।
দীর্ঘদিন ধরে রোদ, বৃষ্টি তে নষ্ট হয়ে যেত। মাঝখানে দুবার সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু লাভপুর বাসীর দাবি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে চাই স্থায়ী সমাধান। আবেদন নিয়ে আমরা উপস্থিত হই বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির কাছে। তারপরেই লাভপুরের মানুষের সেই আবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের কাছে। রাজ্যের তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সশরীরে তিনি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভিটে ঘুরে যান।
লাভপুর থেকে ফিরে গিয়ে তিনি বর্তমান বীরভূম জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিংহ কে জানান কথা সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক ভবন কে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে রাজ্য সরকারের তরফে ৩২ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। এরপর শুরু হয় নতুন ভাবে বৈঠক ভবনের কাজ। সোমবার ৫০ তম প্রয়াণ দিবসে পর্যটকদের জন্য বৈঠক ভবনটি খুলে দেওয়া হলো।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বীরভূম জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিংহ জানিয়েছেন, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের যতটা প্রাপ্য সম্মান প্রয়োজন ছিল ততটা তিনি পাননি। আগামী দিনে তারাশংকর বন্দোপাধ্যায় কে নিয়ে লাভপুরে এমন একটি চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার হবে যেখানে তাকে নিয়ে গবেষণা করবে নবীন প্রজন্মের সাহিত্যকরা। একটি সুন্দর মিউজিয়াম গড়ে তুলতে হবে যেখানে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত সমস্ত জিনিস রাখা থাকবে।
প্রবীণ দের এগিয়ে আসতে হবে নবীন প্রজন্মকে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন দর্শন বোঝানোর জন্য। যে সময়কালের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি সেখানে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার বৈশিষ্ট্য মানব সমাজকে নতুন করে মানবিক হওয়ার রসদ যোগায়। তার লেখার মধ্যে আমরা সমাজের পরিবর্তনের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র লক্ষ্য করেছি।
তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত কিছুর উর্ধে উঠে তার লেখার কৃষ্টির মধ্যে মানবের মহত্বকে তুলে ধরেছেন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ভিটেতে এসেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি উপন্যাস, ছোট গল্প, নাটক, প্রবন্ধ সংকলন, রচনা সংকলন, ভ্রমণ সাহিত্য, কাব্যগ্রন্থ, লিখেছিলেন। আগামীদিনে তারাশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের ধাএীদেবতার সবরকম উন্নয়নের জন্য তৎপর হবে বীরভূম প্রশাসন।

Post a Comment