খাদ্য থেকে বাদ্য, লাউয়ের মহিমা
পুষ্টিকর জনপ্রিয় সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লাউ। লাউ বেশ সহজলভ্য এবং উপাদেয় খাবার। বাজারদরে লাউয়ের সুবিচার হয় না। চচ্চড়ি টু ডেজার্ট-এ সে ‘হিরের টুকরো’ সবজি। কখনও আমিষের নির্ভুল প্রক্সি, কখনও গরমকে ঠাণ্ডা করার সবুজ ডাণ্ডা। তা, লাউ যে খুব অভিজাত সবজি এমনটা তো নয়। তাকে নিয়ে কিঞ্চিৎ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, হাসি ঠাট্টা অবধি চলে।
প্রখর গরমে লাউয়ের ডাল খেয়ে প্রাণ জুড়োয়নি, এমন বঙ্গসন্তান বিরল। আহা, সঙ্গে এক কোয়া গন্ধরাজ লেবু, জমে দই। চল্লিশ ডিগ্রি গরমে পুড়তে থাকা শহরে এর চেয়ে মোক্ষম ওষুধ আর কি আছে। চচ্চড়ি থেকে ডেজার্ট, লাউয়ের মহিমা অপার। এমনকি বাঙালির পরম প্রিয় সব মিষ্টান্নেও লাউয়ের ব্যবহার সুবিদিত। লাউয়ের মোরব্বা তো অতি উপাদেয় একটি সৃষ্টি। লাউয়ের অনেক বিশেষ আমিষ গুণও রয়েছে। ভেজ হোক বা নন-ভেজ, লাউয়ের গুণে যে কোনও ভেজাল নেই, সে কথা না মেনে কিন্তু উপায় নেই।
এত মিনারেলস নাকি অন্য অনেক সবজিতেই নেই। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও এর জুড়ি মেলা ভার। চিংড়ি বাদেও নানা রকমের মাছে, বিশেষত ইলিশে, লাউয়ের এমন ইনোভেটিভ ব্যবহার অন্য কোথাও নেই। আসলে, স্বাদ পাল্টে যায় দেশান্তরে। প্রত্যেক দেশের জলের স্বাদ কি আর এক? এক যদি হত, তবে ইলিশ কেন বেশি ভালবাসে পদ্মাপার? তা, স্বাদের যতই ফারাক থাক, স্বাদে যে সে তুলনাহীনা। বড় সাধের, এই স্বাদের সন্ধান। আর সন্ধান না করেই বা উপায় কি বলুন, এই মারকাটারি গরমে বাইরেটা না হয়, এ সি চালিয়ে ঠাণ্ডা করলেন, শরীরের ভেতরটা ঠাণ্ডা করতে লাউ লা-জবাব!
এমন প্রাকৃতিক এয়ার কন্ডিশনার কোথায়, ক’টা পাবেন শুনি? কুচো চিংড়ি, থানকুনি পাতারও চমৎকার ঝোল হয়, এই লাউ দিয়ে। লাউয়ের আর একটা ব্যাপার আছে। সেটার যোগ সঙ্গীতের সঙ্গে। বিশেষত, লোকসঙ্গীত। শুকনো লাউয়ের খোল থেকে যে কত রকম তালবাদ্য ও বাজনা তৈরি হয়, তার হিসেব নেই। তবলা-বাঁয়া-তানপুরা তো লাউয়েরই বাই-প্রোডাক্ট। তা হলে, ভেবে দেখুন, খাদ্য থেকে বাদ্য, লাউয়ের মহিমা অপার।
Post a Comment