এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকর্মার অমর সৃষ্টিগুলি
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিশ্বকর্মা দেবতাদের শিল্পী। তিনি দেবশিল্পী নামে পরিচিত। বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধা তাঁর মাতা এবং অষ্টম বসু প্রভাস তাঁর পিতা। বিশ্বকর্মার বাহন হাতি। হিন্দু পুরাণ জুড়ে রয়েছে বিশ্বকর্মার বিভিন্ন নির্মাণ। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি-চার যুগ ধরে ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বকর্মার অমর কীর্তিরা।
স্বর্গলোকঃ
সত্যযুগে বিশ্বকর্মা তৈরি করেছিলেন স্বর্গলোক। এই প্রাসাদ থেকেই দেবরাজ ইন্দ্র মর্ত্যলোক শাসন করতেন।
সোনার লঙ্কাঃ
পার্বতীর সঙ্গে বিয়ের পর মহাদেব প্রাসাদ নির্মাণের ভার দেন বিশ্বকর্মাকে। তখন সোনার লঙ্কা নির্মাণ করে বিশ্বকর্মা। এর গৃহ প্রবেশের পূজোর জন্য শিব রাবণকে ডাকেন। পুজোর পর দক্ষিণা হিসেবে রাবণ ওই স্বর্ণলঙ্কা চেয়ে বসেন এবং শিব তা তাকে দিয়ে দেন। তারপর ত্রেতাযুগে রাবণের রাজধানী হয় সোনার লঙ্কা।
দ্বারকাঃ
দ্বাপর যুগের শ্রীকৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকা বিশ্বকর্মার অমর সৃষ্টি। মহাভারতের দ্বারকা শ্রীকৃষ্ণের কর্মভূমি ছিল।
তিনি বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিবের ত্রিশূল ইত্যাদিও তিনি বানিয়ে ছিলেন। বিশ্বকর্মা শুধুমাত্র কর্মদক্ষ ছিলেন না, তিনি বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেছিলেন। তার লেখা স্থাপত্য শিল্প সম্পর্কিত গ্রন্থটির নাম ‘বাস্তু শাস্ত্রম’। মনে করা হয়, হিন্দুদের তেত্রিশ কোটি দেবদেবতার মধ্যে যে কয়েকজন দেবতা ধরাধামে বাস করতেন, তাঁদের মধ্যে বিশ্বকর্মা অন্যতম ৷ তিনি যেন আমাদের ঘরের ছেলে ৷

Post a Comment