শরীরের সাতটি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন ভাটপাড়ার সংগ্রাম - The News Lion

শরীরের সাতটি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন ভাটপাড়ার সংগ্রাম




দি নিউজ লায়ন ;  করোনা কালে চিকিৎসা ব্যবস্থা নজির সৃষ্টি রাজ্যের। এক সঙ্গে লিভার, দুই কিডনি, হৃদযন্ত্র যুদ্ধকালীন তৎপড়তায় প্রতিস্থাপনের কাজ করল কলকাতার তিন হাসপাতাল। যার মধ্যে রয়েছে এসএসকেএম-র মত সরকারি হাসপাতাল। শুক্রবার রাতে এক চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে কল্যাণী গিয়েছিলেন পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ভাটপাড়ার পাঁচ মন্দির এলাকার বাসিন্দা বছর একত্রিশের সংগ্রাম ভট্টাচার্য।



ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সে। রবিবার ভোরে চিকিৎসকরা সংগ্রামকে ব্রেন ডেড ঘোষণা করেন। এরপরে ছেলের মৃত্যুশোকে স্তব্ধ পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় অঙ্গদানের। তারপরে সমস্ত সরকারি নিয়মকানুন অতিবাহিত করে সোমবার দুটি গ্রীন করিডরের মাধ্যমে সংগ্রামের শরীরের সাতটি প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়। এই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মধ্যেই রাজ্য চিকিৎসা ব্যবস্থা নজির সৃষ্টি করেছে এ দিন।




ভাটপাড়ার ছেলে সংগ্রাম বছর তিনেক আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সংগ্রামের বাড়িতে রয়েছেন বাবা, মা, দাদা ও স্ত্রী। শুক্রবার রাতে কল্যাণী থেকে ফেরার সময় অসাবধানতা বশত তিনি বাইকের স্ট্যান্ড তুলতে ভুলে যান বলে সূত্রের খবর। স্ট্যান্ড স্পিড ব্রেকারে লাগে, সংগ্রাম ছিটকে পড়েন রাস্তায়। তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল ঠিকই কিন্তু ফিতে লাগানো ছিল না। সংগ্রাম মাথায় আঘাত পান, কান দিয়ে রক্ত বার হতে থাকে। তাঁকে তড়িঘড়ি কল্যাণী মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে শনিবার ১৫ তারিখ ভোরে নিয়ে আসা হয় কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে।



এরপর তার অস্ত্রোপচার হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। রবিবারই চিকিৎসকরা তাঁকে ব্রেন ডেড হিসেবে ঘোষণা করেন। তারপরে সংগ্রামের পরিবার সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁর অঙ্গদান করা হবে। সেই মত ওইদিন রাতেই স্বাস্থ্য দফতরের ব্রেন ডেথ অডিট কমিটি ওই বেসরকারি হাসপাতালে আসে। আসেন রিজিওনাল অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গানাইজেশনের সদস্যরা। সংগ্রামকে পরীক্ষা করে তাঁরাও তাঁকে ব্রেন ডেড ঘোষণা করেন।



শুরু হয় গ্রহীতা সন্ধান। সেই সন্ধান সম্পন্ন হওয়ার পর করোনা কালে কিভাবে প্রতিস্থাপন হবে তা নিয়ে দোলাচল কাটাতে রাতেই গ্রহীতা এবং নার্স ও চিকিৎসকদের করোনা পরীক্ষা করা হয়। জানা যায় সবারই রিপোর্ট নেগেটিভ। এরপরেই শুরু হয় প্রতিস্থাপনের কাজ। যা এ দিন  সম্পন্ন হয়। জানা গিয়েছে, সংগ্রামের লিভার পাচ্ছেন আগরতলার বাসিন্দা ৫৯ বছরের এক ব্যক্তি। কাল তাঁকে ত্রিপুরা থেকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। ওখানেই অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়। একটি কিডনি পাচ্ছেন লিলুয়ার বাসিন্দা ২৯ বছরের এক যুবক। এটিও প্রতিস্থাপন হবে ওই বেসরকারি হাসপাতালে। হৃদযন্ত্র পৌঁছায় হাওড়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি ১৭ বছরের কিশোরীর শরীরে।




দুটি কর্নিয়া দান করা হয়েছে একটি চক্ষু হাসপাতালে। অন্য কিডনি ও ত্বক এসএসকেএমে দান করা হয়েছে। অঙ্গ নিয়ে যাওয়ার জন্য এ দিন তৈরি করা হয় দুটি পৃথক গ্রিন করিডর। যার একটি যায় হাওড়ার হাসপাতালে, অন্যটি এসএসকেএমে।



এ দিকে, শোকের ছায়ার মধ্যেও  ভট্টাচার্য পরিবারের এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছে পাঁচ মন্দির এলাকার বাদিন্দারা থেকে গোটা ভাটপাড়া। সংগ্রাম কয়েকজনের শরীরে বেচে থাকবে  তার চোখ, কিডনি এবং লিভারের মধ্যে দিয়ে এটাই এখন একমাত্র মানসিক শান্তি ভট্টাচার্য পরিবারের কাছে। সংগ্রামের ইচ্ছে ছিলো তার শরীর যেন দাহ না হয়, মানুষের কাজে লাগুক। কিন্তু সেই ইচ্ছে যে এই ভাবে অকালে পুরন হবে তা ভেবে উঠতে পারছে না সংগ্রামের বৃদ্ধ বাবা সুশীম ভট্টাচার্য।




 তিনি বলেন, অঙ্গদানের বিষয়ে বৌমাকে ছেলে জানিয়েছিল। ছেলের মৃত্যুর পর বৌমা সে কথা জানাতে তিনি একবারে রাজি হয়ে যান। কোন দ্বিমত প্রশন করেনি। তাদের ছেলে অন্যদের মধ্যে বেঁচে থাকুক এখন এই আশাতেই বুক বাঁধছে ছেলে হারানো মা দেবী ভট্টাচার্য।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.