জমি বিবাদ নিয়ে রণক্ষেত্র বহরমপুর
দি নিউজ লায়ন ; সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে বহরমপুরের রাধারঘাট এলাকায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হল। ঘটনার জেরে বোমাবাজিতে ৩ নাবালক সহ গুরুতর জখম কমপক্ষে ১০জন। কয়েকজন মহিলাও জখম হয়েছেন। দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় জানা গিয়েছে, রানিনগর গ্রামে পুকুরপাড়ে প্রাচীর তুলছিল রাকিবুল শেখের পরিবার।
সেইসময় তাঁর প্রতিবেশীরা কাজে বাধা দেয়। ওই জমি নিজেদের বলে তারা দাবি করে। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ করেই ভিড়ের মাঝে রাকিবুল শেখের পরিবারের লোকজনদের ওপর বোমা ছোঁড়া হয়। তাতে পরিবারের সকলেই জখম হয়েছেন। গ্রামবাসীরা তাঁদের উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। গ্রামে উত্তেজনা থাকায় বহরমপুর থানার পুলিস মোতায়েন রয়েছে।
অভিযুক্তদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদের পুলিস সুপার কে শবরী রাজকুমার বলেন, পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে রাকিবুল শেখ বলেন, পুকুরপাড়ে ওই জমির দলিল আমাদের কাছে রয়েছে। সেখানে দেওয়াল দেওয়ার পর বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সেইমতো এদিন সকাল থেকে কাজ শুরু হয়।
হঠাৎ করেই প্রতিবেশীরা লোকজন জমায়েত করে কাজে বাধা দেয়। দলিল থাকা সত্ত্বেও কেন কাজ করা যাবে না। এই প্রশ্ন করতেই তারা উত্তেজিত হয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এরপরই ওরা আমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে। সেইসময় তিনজন বালক সেখানে ছিল। তারাও জখম হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক"।
ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তের পক্ষে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাই তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, ওই জমি নিয়ে আগেও দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। গ্রামের লোকজনের মধ্যস্থতায় তা মিটেও গিয়েছে। কিন্তু পুকুরপাড়ে আবার নতুন করে পাঁচিল দেওয়ার কাজ শুরু হতেই বিরোধ বাধে। অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা ছোঁড়া হয়। তাতে কারও মাথা ফেটে গিয়েছে।
আবার কারও সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নাবালকদের চোটও গুরুতর। বেডে শুয়ে তারা সমানে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে।
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কর্মধ্যক্ষ রাজীব হোসেন বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। ওদের নিজেদের গোলমালে এটা হয়েছে। ঘটনার পর আমরা খোঁজ নিয়েছি"।

Post a Comment