কংগ্রেসের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়
দি নিউজ লায়ন ; প্রয়াত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ ছয় দশকব্যাপী দীর্ঘ ছিলো তাঁর রাজনৈতিক কর্মতাবন। তিনি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা। বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ২০১২ সালের ২৫ জুলাই ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থমন্ত্রী।
কংগ্রেসে যখনই কোনও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, ক্ষুরধার মস্তিষ্কে তখনই তাঁর সমাধান করেছেন প্রণববাবু। রাজনৈতিক মহলে কংগ্রেসের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আস্থাভাজন হিসেবে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত হন প্রণববাবু। তারপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। কংগ্রেস একের পর এক গুরুদায়িত্ব দিয়ে গিয়েছে তাঁর কাঁধে। নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন প্রণববাবু।
ক্রমেই ইন্দিরা গান্ধীর একজন বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ১৯৭৩ সালে ইন্দিরা গান্ধীর ক্যাবিনেট মন্ত্রিসভায় স্থান পান। এরপর ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালেও তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে কেন্দ্রীয় শিল্পোন্নয়ন উপমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম ক্যাবিনেটে যোগদান করেন। প্রণব মুখোপাধ্যায় বিভিন্ন সময়ে ভারতের বিদেশ, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ, রাজস্ব ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারত মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের মতো গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপে তাঁর বিশেষ অবদান ছিলো। তবে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন প্রণব। প্রণব রাজীব গান্ধীর থেকে অনেক অভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইন্দিরা পুত্র। রাজীব আমলে ক্যাবিনেট থেকে বাদ পড়েন তিনি, তাঁকে পাঠানো হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সামলাতে। ১৯৮৬ সালে নিজের দল প্রতিষ্ঠা করেন প্রণব। নাম দেন রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস।
তিন বছর পরেই ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধীর মধ্যস্থতায় ফের জুড়ে যায় দুই কংগ্রেস। রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর ১৯৯১ সালে ফের বদল আসে প্রণবের রাজনৈতিক জীবনে। নরসীমা রাওর আমলে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে ইন্ডিয়ান প্ল্যানিং কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন প্রণব। নরসীমার সময়েই ১৯৫৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্বভার সামলেছেন তিনি।সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সারা ভারত জাতীয় কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন প্রণব।

Post a Comment