গঙ্গার ভাঙ্গনে চোখের সামনে তলিয়ে গেল প্রায় ১৫ টি কাঁচা বাড়ি
দি নিউজ লায়ন ; সামশেরগঞ্জের ধানঘরা এলাকায় গঙ্গা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নদী আরও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে। একদিনেই প্রায় ১৫ টা বাড়ি ভেঙে পড়েছে। বিঘার পর বিঘা জমির আম ও লিচুর বাগান নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। গ্রামে এখন শুধুই আর্তনাদ। সামশেরগঞ্জের নিমতিতার ধানঘরার পাশাপাশি হীরানন্দপুর , শিবপুর গ্রামের বাসিন্দারাও আতঙ্কে প্রহর গুনছেন।
গঙ্গা এই দু’টি গ্রামেরও কাছাকাছি এসে গিয়েছে। নদী ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই তিনটি গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি আস্ত থাকবে না। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ধানঘরায় ৭০০থেকে ৮০০টি বাড়ি রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিন সকাল থেকে ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছেন আবার কেউ পাশের গ্রামে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছেন।এলাকার বাসিন্দা সেতাবুল শেখ বলেন, চোখের সামনে সবকিছু তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিশ্রম করে গ্রামের লোকজন আম লিচুবাগান তৈরি করেছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের অনেকের মোটা টাকা আয় হতো। সেসব শেষ হয়ে গেল।
অনেকের মাথা গোঁজার ঠাঁইও থাকল না।গ্রামের বাসিন্দা নিয়াজ শেখ বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষই গরিব। কেউ বিড়ি বেঁধে আবার কেউ দিনমজুর খেটে সংসার চালান। বহু কষ্ট করে অনেকে পাকা বাড়ি তুলেছিলেন। সেসব তাঁদের নিজের হাতে ভেঙে নিতে হচ্ছে।
তা না করলে গঙ্গার গ্রাসে গেলে একটা ইটও পাওয়া যাবে না। গ্রামজুড়ে এখন ধ্বংসস্তূপের ছবি। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা সামশেরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আনারুল হক বলেন, গ্রামের বাসিন্দারা খুব কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। আমরা ত্রাণের সমস্থ রকমের ব্যাবস্থা করে চলেছি"।

Post a Comment