রাজনীতিতে আসছেন এরশাদের প্রাক্তন স্ত্রী বিদিশা!
ঢাকা প্রতিনিধি : জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ব্যক্তিজীবনে ছিলেন ভীষণ রোমাঞ্চপ্রিয়। রাজনীতির মতো তার ব্যক্তিজীবনও ছিল রহস্যময়। সামরিক শাসনকালে তো বটেই, এর পরও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক প্রেম ও বিয়ের খবর শোনা গিয়েছে।এরশাদ চারজনকে বিয়ে করেছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। তারা হলেন রওশন, বিদিশা, মেরি ও জিনাত মোশাররফ।
এর মধ্যে দুজনের বিয়ের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। একজন রওশন এরশাদ। রওশনের আগে এরশাদের আরেকটি বিয়ের কথা আলোচনায় ছিল অনেক দিন। পরে কবিকন্যা বিদিশাকে বিয়ে করার বিষয়টিও ছিল আলোচিত ঘটনা। তাদের এই বিয়ে টেকেনি। বিদিশার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রওশনই ছিলেন এরশাদের স্ত্রী। এবার শোনা যাচ্ছে রাজনীতিতে আসছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাক্তন স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক।
এসেই জাতীয় পার্টির (জাপা) হাল ধরবেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। এ-ও শোনা যাচ্ছে, জাপার কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার মৌন সম্মতি ও জ্যেষ্ঠ কিছু নেতার সহযোগিতায়ই রাজনীতিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বিদিশা।এদিকে, রাজনীতি ও জাপার ঘরে বিদিশার আগমনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে রংপুরের তৃণমূলের নেতারাও। তাই মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই যে কোনো সময় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটতে পারে বিদিশার।
জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।এই প্রসঙ্গে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের বলেছেন, এটা শুধুই গুঞ্জন। এই মুহূর্তে দলে বিদিশার আসার কোনো সম্ভাবনা নেই, ভবিষ্যতেও হবে না।তবে আরেকটি সূত্র বলছে, বিদিশা দলে ভিড়বেন জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষকের হাত ধরে। অর্থাৎ রওশন এরশাদের হাত ধরে জাপার নেতৃত্বে আসছেন বিদিশা। এই কারণে রওশন এরশাদও নাকি এখন বিদিশার সঙ্গে নিয়মিত আলাপচারিতাও চালিয়ে যাচ্ছেন। ফোনে নিয়মিত খোঁজ-খবরও রাখছেন দুজন-দুজনার।
ওই সূত্রটি আরও জানায়, জএম কাদের পার্টিকে কুক্ষিগত করে রাখছেন। এরশাদ পরিবারের অন্য সদস্যদের জাপার রাজনীতিতে স্থান দেয়া হচ্ছে না। তাই প্রয়োজনে জি এম কাদেরকে ছাড়াই জাপাকে শক্তিশালী করতে নেতৃত্ব দিবেন এরশাদ পরিবারের বাকি সদস্যরা। এই কারণে দলের রদবদলে যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।এদিকে, জাতীয় পার্টির ঘাঁটি বলে পরিচিত রংপুরের নেতাকর্মীরাও চাইছেন বিদিশা রাজনীতিতে আসুক।
এই প্রসঙ্গে রংপুরের মেয়র ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদিশা যদি রাজনীতিতে আসেন তাহলে আমাদের আপত্তি নেই।তবে রাজনীতিতে আসা প্রসঙ্গে বিদিশা বলেন, জনগণ যদি আমাকে চান, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যদি আমাকে চান তাহলে অবশ্যই রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখবো। জাতীয় পার্টি কারো একার সম্পত্তি নয়। আসলে জনগণ চাইলে আমিই রাজনীতিতে সক্রিয় হবো।
বিদিশার দলে ভিড়া প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, বিদিশাকে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাপা থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। সেই থেকে বিদিশা জাতীয় পার্টির সঙ্গে নেই।এরপরও যদি তিনি নিয়ম-কানুন মেনে আসতে চান তাহলে তাকে স্বাগত জানানো হবে। এতে আমারও কোনো আপত্তি থাকবে না।

Post a Comment