এবছর হচ্ছে না ১৭ শ্রাবণ ঘুটিয়ারিশরীফের মেলা - The News Lion

এবছর হচ্ছে না ১৭ শ্রাবণ ঘুটিয়ারিশরীফের মেলা





দি নিউজ লায়ন ; করোনা ভাইরাসের কারনে এবছর হচ্ছে না ১৭ শ্রাবণ ঘুটিয়ারিশরীফের মেলা। প্রতিবছর ১৭ শ্রাবণ উপলক্ষ্যে গাজি বাবার মাজার ও লাগোয়া এলাকায় মেলা বসে। শুধু এ রাজ্য নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সব ধর্মের মানুষ আসেন সেই মেলায়।


১৭ শ্রাবণ বাবার সমাধিতে চাদর চড়িয়ে গাজি বাবার মক্কা পুকুরে শিরনি ভাসালে মনস্কামনা পূরণ হয় বলে কথিত রয়েছে। আর সেই উপলক্ষ্যেই প্রতিবছর এই বিশেষ দিনটিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় ঘুটিয়ারিশরিফে। কথিত আছে, কয়েকশো বছর আগে যখন এই এলাকা বন জঙ্গলে ভর্তি ছিল, সেই সময় থেকেই এই এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন গাজি বাবা। এখানেই তিনি ধ্যান, তপস্যা, আরাধনা করতেন। আশপাশে যে কটি গ্রাম ছিল, সেইসব গ্রামের মানুষজন তাঁকে বড়ই শ্রদ্ধা করতেন। মানুষের বিপদ আপদ কানে শুনলেই সেখানে গিয়ে সমাধানের পথ বাতলে দিতেন গাজি বাবা। একবছর এলাকায় প্রবল ক্ষরা দেখা দেয়। বৃষ্টির অভাবে চাষবাস বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এলাকায়। গ্রামের মানুষজন গাজি বাবার শরণাপন্ন হন। বৃষ্টি আনার জন্য নিজের ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ধ্যানে বসেন তিনি। কাউকেই দরজা খুলতে বারণ করেন। কয়েকদিনের মধ্যেই এলাকায় বৃষ্টি নামে।



৭ আষাঢ় ই গাজি বাবার মৃত্যু দিন বলে ধরা হয়। আর সেদিন থেকে ৪১ দিন পর ১৭ শ্রাবণকে বাবার উরস উপলক্ষ্যে মেলা বসে এলাকায়। এই ১৭ শ্রাবণ মাজার এলাকায় বিভিন্ন ধরণের ইসলামিক গজল, কাওয়ালী, সুফি, তারানা গানের আসর বসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পীর, ফকিররা যেমন আসেন তেমনি সাধারণ মানুষজনও আসেন সেখানে। গাজি বাবার সমাধিতে চাদর চড়িয়ে মক্কা পুকুরে শিরনি ভাসান তাঁরা।



তবে এবার এ সবকিছুই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাজার কমিটির সদস্য তথা গাজি বাবার মাজারের কেয়ারটেকার সিরাজউদ্দিন দেওয়ান।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.