বাচ্চাদের মধ্যে কখন অসংগতিমূলক আচরন দেখা যায় - The News Lion

বাচ্চাদের মধ্যে কখন অসংগতিমূলক আচরন দেখা যায়




১) মিথ্যা কথা বলা অপসংগতি মূলক আচরণের একটি দিক। খেলার ছলে মিথ্যা বলা, বিষয়বস্তুকে অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা করা, সত্য গোপন করা ইত্যাদি স্বাভাবিক। কিন্তু শিশু যখন কোন কারণ ছাড়া ইচ্ছা করে মিথ্যা বলে তখন বুঝতে হবে, সেই মিথ্যে সে অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে বলছে। এবং সেটি অস্বাভাবিক। এই জাতীয় মিথ্যা ভাষণে তার চাহিদার পরিতৃপ্তির ঘটে না। অন্তর্দ্বন্দ্বের সমাধান হয়না। তার ব্যর্থতা বা হতাশা ও মেটে না। উপরোন্তু মিথ্যার পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে। ফলে তার অপরাধ বোধও বাড়তে থাকে। এবং সে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।



২) চুরি করার অভ্যাস এক ধরনের অপসংগতিমূলক আচরন। যে শিশুর প্রয়োজন থেকে চুরি করে, সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক সময় শিশুরা আত্মপ্রতিষ্ঠার চাহিদা মেটাবার জন্য, বা অন্য কোনো চাহিদা অপরিতৃপ্ত থাকার জন্য নিজেকে চুরির কাজে নিয়োজিত করে। এই ধরনের কাজ তাকে ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণ করে তোলে।এক্ষেত্রে সে সেই বস্তুটিকে, তার আকাঙ্ক্ষিত বস্তুটির প্রতীক হিসেবে মনে করে, এবং ওই বস্তুটির অধিকারী হয়ে, সে সেই চাহিদাটি মেটাতে চায়। 

৩) ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যৌন কৌতুহল অপরিতৃপ্ত থাকার জন্য, অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণের মধ্য দিয়ে তারা তার পরিতৃপ্তি খুঁজে পেতে চায়। অশ্লীল সাহিত্য পাঠ, অশালীন মন্তব্য ও ইঙ্গিত করা, বিকৃত যৌন আচরণ, ইত্যাদির মধ্যে তারা যৌন চাহিদার পরিতৃপ্তি খুঁজে পায়।    শিশুর প্রতি অমনোযোগ, পিতা-মাতার অতিরিক্ত আদর বা অনাদর, অতি শৃঙ্খলা, শৃঙ্খলার অভাব, পিতা-মাতার অজ্ঞতা, শিশুদের নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা, শিশুদের উপর সৃষ্ট চাপ, এই বিষয়গুলি নিয়ে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে পরামর্শদাতার সাহায্য নিতে হবে।




৪) অনেক সময় কোনো কোনো ছেলেমেয়ে খুব শান্তশিষ্ট, চুপচাপ থাকে। সাধারণত এদের ভালো ছেলে বা মেয়ে বলেই মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এরা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হয়ে, বাস্তব জগত থেকে সরে এসে নিজেদের জগতে গুটিয়ে থাকে। নিজেদের চাহিদা অপরিতৃপ্তির জন্য এরা বাইরের জগতের সাথে মিশতে চায় না। এরা ভীরু প্রকৃতির হয়। নখ কাটা, তোতলামি, অস্থিরতা, এই উপসর্গগুলি অনেক সময় যুক্ত থাকে। 

 ৫) মানসিক দ্বন্দ্ব ও আবেগ মূলক অস্থিরতার জন্য এরা বাস্তবের সম্মুখীন হতে ভয় পায় এবং বাস্তব কে এড়িয়ে চলতে চায়। যেমন, পরিশ্রমের ভয়ে শিশু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে চায় বা শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিতে চায়। ক্লাস পালিয়ে যেতে চায়। একরকম পলায়ন প্রবৃত্তি এদের মধ্যে দেখা যায়।   




৬) অনেক শিশু দেখা যায়, যারা সহপাঠীদের বা ভাই-বোনদের অকারণে মারধোর করে আনন্দ পায়। এদের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব, অপসংগতিমূলক আচরন। নিরাপত্তাবোধের অভাবই শিশুদের মধ্যে এই আক্রমন করার মনোভাব সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা বোধের অভাবের জন্য শিশু নিজেকে অবহেলিত মনে করে এবং আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য অকারণে, অন্যকে মেরে স্বীকৃতি লাভের চেষ্টা করে। 

৭) অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা নিজের খুশিমতো কাজ করে। যে কোনো রকমের সিদ্ধান্তেরই প্রতিবাদ করে, বা যে কোনো রকমের আদেশ নির্দেশেরই বিরুদ্ধাচরণ করে। এই ধরনের ছেলেমেয়েদের মধ্যে সবসময়ই বিদ্রোহ বা প্রতিবাদের মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। শিশুরা সব সময় স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায়। অপরের নিয়ন্ত্রণ তারা পছন্দ করেনা। কিন্তু এই নেতিবাচক মনোভাব অনেক সময় গুরুতর আকার ধারণ করে। 


কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.