তীব্র গরমে শরীরের তাপ কমানোর কিছু প্রাকৃতিক উপায়
তীব্র গরমে শরীরের জল ঘামের আকারে বেরিয়ে এসে বাষ্পীভূত হলে কমে দেহের তাপমাত্রা। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় এই গরমে অস্বস্তি বাড়ছে বহুগুণ। । তবে কিছু পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি শরীরের তাপ কমানোর কাজটি করতে পারবেন। আজকে জেনে নিন প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরের তাপ কমানো যাবে এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি-
প্রচুর তরল বা তরল জাতীয় খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আপনি ঘরোয়া ভাবে শরীরে তাপ ও জল শুন্যতা কমাতে পারেন। এছাড়াও আরও কিছু প্রতিকারের উপায় আছে যেমন আপনার পা জলে ভেজানো বা উষ্ণ স্নান গ্রহণ।
ঢিলাঢালা, হালকা ওজন এবং হালকা রঙের পোশাক পরুন। যদি সম্ভব হয়, পোশাকের বাড়তি অংশ খুলে রাখুন এতে প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরের তাপ কমানো যাবে। সিল্ক, শিফন, পাতলা সুতি এবং লিনেনের মত হালকা ওজনের কাপড়গুলি চরম গরমের জন্য উপযুক্ত। সাথে সাদা এবং অন্যান্য হালকা রং পরতে চেষ্টা করুন, যা সূর্যালোক প্রতিফলিত করে তাপকে হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে। যদি সম্ভব হয়, একটি এয়ার কন্ডিশনাল স্পট খুঁজে নিন।
এয়ার কন্ডিশনার এর মধ্যে কিছুটা সময় থাকলে খুব কম সময়ে শরীরের বাড়তি তাপ কমে আসবে। একটি ফ্যানের সামনে বসেই এটা করা যেতে পারে। আপনার যদি শুধুমাত্র একটি ফ্যানের ব্যবস্থা করতে পারেন তবে ত্বক ঠাণ্ডা জল দিয়ে ভিজিয়ে নিন, এটি আপনার ত্বকে দারুণ চমৎকার একটি ঠাণ্ডা অনুভুতি এনে দেবে। আপনি যখন স্নান করবেন বা স্পঞ্জ করবেন তখন ফ্যানের বাতাসের মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন। এতে দ্রুত কাজ হবে। মৃদু গতিতে, দীর্ঘসময় নিজেকে বাতাস করুন। যদি বৈদ্যুতিক ফ্যান না পান তাহলে হাত পাখা দিয়ে নিজেকে বাতাস করে আপনার তাপমাত্রা কমান।
বাতাস করার সময় আপনার ত্বককে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ভিজিয়ে নিন, এটা আরো সহায়ক। একটি পাত্রে ঠাণ্ডা জল এবং বরফ নিন তারপর তাতে আপনার পা ডোবান। ভাল ফলাফলের জন্য, অন্তত ৬০ মিনিটের জন্য রাখুন। জল গরম হতে শুরু করলে পাত্রে আবারো ঠাণ্ডা জল এবং বরফ দিন। বার বার অল্প পরিমাণে ঠাণ্ডা জল পান করুন। জল প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরের তাপ কমানোর কাজে সাহায্য করে এবং ঘাম হওয়ার ফলে আপনি যে তরল হারিয়েছেন তা পূরণ করে। একবারে বেশী জল পানের চেয়ে প্রতি ১৫ মিনিট পর পর ৬ থেকে ৮ আউন্স (১৭৭ থেকে ২৩৭ মিলিগ্রাম) জল পান করা বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া যে ভাবে বদলে যাচ্ছে তাতে দিনে দিনে গরমের অস্বস্তি আরও বাড়বে।

Post a Comment