কলকাতায় কী ভাবে বাসের যাত্রা শুরু? - The News Lion

কলকাতায় কী ভাবে বাসের যাত্রা শুরু?



বর্তমান পরিস্থিতিতে কল্লোলিনীর চলার ছন্দে কিছুটা তাল কাটলেও, তার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটা গতি রয়েছে। আর গতির কথা যখন আসে এই শহরের রাস্তায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন বাসের কথা কীভাবে বাদ দেওয়া যায়। সিঁথি থেকে শ্যামবাজার হোক কিংবা আপনি যদি সুদূরের পথযাত্রীও হন, তা হলেও অসুবিধা নেই। এই বিরাট কলেবরওয়ালা যানবাহন এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে পৌঁছে দিতে সবসময় প্রস্তুত।




কলকাতার রাস্তায় এমনিতে ফাঁকা বাস পাওয়া দুষ্কর। আর তাই এই যানবাহনটির সঙ্গে আরাম আয়েশের তেমন সম্পর্ক নেই। বরং তার চেহারাটা মনে পড়লেই অফিস টাইমে গেটের সামনে ঝুলন্ত কাঁধে ব্যাগওয়ালা কিছু মানুষের দৃশ্য চোখের সামনে ভাসতে থাকে। অথবা যেগুলি আকারে আরও বড়, সেগুলির হ্যান্ডেল ধরে বাসের এদিক থেকে ওদিক হিমশিম খাওয়ার বিভীষিকা সঙ্গে নিয়ে অফিসের জন্য বেরোতে হয়। এই যানকে নিয়ে এত বিরক্তি থাকলেও একে এড়িয়ে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।




কলকাতা রাস্তায় নানা আকারের নানা রঙের বাস দেখা যায়। কোনও টার উপর নীচ এবং চার পাশ সবদিক থেকেই চাপা। কোনওটার আবার সামনে পিছনে দুদিকেই রয়েছে দরজা। গাঢ় মেরুন রঙেরগুলি আবার মিনি বাস। তবে শুরুতেও কি এমনই চেহারা ছিল বাসের। নাকি কালের নিয়মে এরও বিবর্তন হয়েছে?  কলকাতায় প্রথম বাস চলা শুরু ১৮৩০ সালে। তখন ছিল ঘোড়ায় টানা বাস। সেই বছরের ২২ নভেম্বর এসপ্লানেড থেকে বারাকপুর পর্যন্ত তিন ঘোড়ায় টানা বাসে যাত্রা শুরু হয়। তবে সেই সময়ে কলকাতার রাস্তা এই ঘোড়ায় টানা বাস চলার জন্য সেরকম আদর্শ ছিল না। যাত্রীদের পক্ষে এই গাড়িতে ওঠা একটুও আরামদায়ক ছিল না।     




জানা যায়, এর পরে কলকাতার রাস্তায় চলেছে বাষ্পচালিত যান। তবে শহরের রাস্তায় প্রথম মোটর চালিত বাস চলে ১৯২২ সালে। কী ভাবে বাসের যাত্রা শুরু? জানা যায়,  জালিওয়ানাবাগ, মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলন ইত্যাদির পরে কলকাতায় তখন এক অস্থির পরিস্থিতি। চারদিকে মিটিং, হরতাল লেগেই রয়েছে। একটা সময় ট্রাম ধর্মঘট বেশ কিছুদিন স্থায়ী হয়। ফলে অফিসযাত্রীরা সমস্যায় পড়েন। তখন যে সব অফিসের মাল-বওয়া লরি ছিল, সেগুলিতে বেঞ্চ পেতে বাবুদের যাতায়াত শুরু হয়। নির্দিষ্ট এলাকা থেকে তাঁদের তুলে পৌঁছে দেওয়া হতো।  তবে উঁচু লরিতে ওঠা আর একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো তখন। বিশেষ করে যাঁদের বয়স বেশি বা ভারী চেহারা তাঁদের ওঠাতেই আরও তিন জনের সাহায্য লাগত।






 ধীরে ধীরে মালবাহী লরি ব্যবসা শুরু করল। যাত্রী বহন করার জন্য টিকিটের ব্যবস্থা চালু করল তারা। লরিতে ওঠার জন্য মইয়ের ব্যবস্থা করা হল। সেটা বেয়ে যাত্রীরা ওঠানামা করতেন। এর পরে লরির মাথায় টাঙানো হলো চাঁদোয়া। ব্যবসা ভালো হচ্ছে দেখে পুলিশ কমিশনার বাসের লাইসেন্স ছাড়তে লাগলেন। ক্রমশ বিচিত্র রকমের নামের বাস কলকাতার রাস্তায় চলা শুরু হল। মেনকা, কিন্নরী, উর্বশী, মা, পথের বন্ধু, চলে এসো, আমি যাচ্ছি এই সব নাম।    এর পরেই বেরলো ওয়ালফোর্ড কোম্পানির লাল রঙের বড় বড় বাস। এই কোম্পানিরই বাস অনেকগুলি ছিল। বেন্টিংক স্ট্রিটের পূর্বদিকে লালবাজারে পৌঁছনোর আগে একটা ডিপো ছিল। এই কোম্পানিই প্রথম আনল ডাবল ডেকার বাস।





 তবে দোতলায় শেড ছিল না। ওয়ালফোর্ড কোম্পানির দোতলা প্রাইভেড বাস চালু হয় ১৯২৬ সালে। কলকাতায় এই কোম্পানির ৬৫টি বাস ছিল। কলকাতা ও শহরতলির মধ্যে বাস চালানোর প্রবর্তক ছিলেন আবদুল সোভাস নামে এক ব্যক্তি। তিনি কলকাতার শহরতলি থেকে কলকাতার ভিতর পর্যন্ত সার্কুলার রোড দিয়ে বাস চালিয়েছিলেন।  ১৯২৪ সালে কলকাতার রাস্তায় বাসের সংখ্যা ছিল ৫৫। ১৯২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮০। স্টেট বাস প্রথম চলে ১৯৪৮ সালে। মিনি বাস ১৯৭২ সালে। আর সেই যে পথচলা শুরু হল, আজও এক নাগারে শহরের রাস্তায় হাজিরা দিচ্ছে এই চারচৌকো আকারের যান। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.