কাজ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে কিশোরীকে দেহ ব্যাবসায় নামানোর অভিযোগ
কাজ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে কিশোরীকে দেহ ব্যাবসায় নামানোর অভিযোগে দুই মহিলাকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনা গলসি থানা এলাকায়। ধৃতদের নাম রোজিনা বেগম শেখ ওরফে লাভলি ও তুহিনা বেগম ওরফে খোদেজা। গলসি থানার ভারিচা গ্রামে তাদের বাড়ি।
পুলিস জানিয়েছে, গলসি থানার খেতুরা এলাকার এক কিশোরী মামারবাড়িতে থাকে। অভিযোগ, সেখানেই প্রতিবেশি রোজিনা গত বুধবার কিশোরীকে ভালো কাজ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেয়। তার প্রস্তাবে রাজি হলে অনেক টাকা পাওয়া যাবে বলে কিশোরীকে লোভ দেখানো হয়। কাজের জন্য তুহিনার সঙ্গে বাইরে যেতে হবে বলে কিশোরীকে জানানো হয়। কিশোরী সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।
সেই মতো সেইদিন সন্ধ্যায় তাকে গাড়ি করে অনেকটা দূরে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। যোগাযোগ রাখার জন্য কিশোরীকে একটি নতুন মোবাইল দেওয়া হয়। জায়গাটিতে কয়েকজন আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর কিশোরীকে দেহ ব্যাবসা করার জন্য বলা হয়। রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে কিশোরী প্রস্তাবে রাজি হয়।
এরপর কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পরেরদিন ভোর ৫টা নাগাদ তাকে মারুতি গাড়িতে করে মামার বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। ১ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনটি তাকে দেওয়া হয়। ঘটনার কথা কাউকে না বলার জন্য কিশোরীকে শাসানো হয়। লোকলজ্জায় ও ভয়ের কারণে কিশোরী কাউকে কিছু বলেনি। মঙ্গলবার ঘটনার কথা জানিয়ে কিশোরী থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
তার ভিত্তিতে মহিলা পাচার, জোর করে দেহ ব্যবসায় নামানো ও গণ ধর্ষণের ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিস। তারপরই বুধবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিস। এদিনই ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। ঘটনাস্থল খুঁজে বের করা এবং বাকি জড়িতদের হদিশ পেতে ধৃতদের ৩ দিন পুলিসি হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন বর্ধমান আদালতের বিচারক।
কোভিড টেস্টের পর শুক্রবার কিশোরীর গোপন জবানবন্দি নথিভূক্ত করার জন্য পঞ্চম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নিের্দশ দিয়েছেন বিচারক। কিশোরীকে দেওয়া মোবাইলটি পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে। গলসি থানার এক অফিসার বলেন, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে কিশোরীকে কারা ধর্ষণ করেছে তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা হবে। কোন জায়গায় কিশোরীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাও জানার চেষ্টা করা হবে।

Post a Comment