প্রতারণাই যার প্রধান ব্যবসা
ঢাকা প্রতিনিধি ; করোনাভাইরাসের পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া; নিয়ম বহির্ভূতভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় এবং মেয়াদপূর্তির পরও হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন না করা- এমন অসংখ্য অভিযোগ ছিলো তার প্রতি।
হাসপাতালে অভিযান চালানোর পরই বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। আর নড়েচড়ে বসে সরকার।বলা হচ্ছে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ব্যাবসায়ী মোহাম্মদ শাহেদের কথা। মঙ্গলবার হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অথচ এই হাসপাতালটি সরকার করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করেছিল।তার আগে গত সোমবার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই নেগেটিভ বা পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায় র্যাব। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।সোমবার অভিযানের সময় রিজেন্ট থেকে আট কর্মচারীকে ধরে এনেছিল র্যাব।
মঙ্গলবার করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদের প্রধান ব্যবসা ছিল বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গোয়েন্দা শাখার প্রধান সারোয়ার বিন কাশেম। আজ বুধবার দুপুরে র্যাবের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
র্যাব কর্মকর্তা সারেয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদ বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণাই ছিল তার প্রধান ব্যবসা।’র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের হর্তা-কর্তা ব্যক্তিদের সাথে সে ছবি তুলেছে। এটা আসলে তার একটা মানসিক অসুস্থতা। এই ছবি তোলাকে কেন্দ্র করেই সে প্রতারণা করতো।
’মো. শাহেদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতারকদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা যখন যার নাম পারে তখন সেটা বেঁচে নিজের জীবনকে অগ্রগামী করার চেষ্টা করে।’র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সবকিছু থেকে সে এখন নিস্ক্রিয়। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান চলছে।’

Post a Comment