বিশ্বজুড়ে মৃত কন্যাসন্তানদের মধ্যে প্রায় তিনভাগের একভাগই ভারতের
বিশ্বব্যাপী মৃত
কন্যাসন্তানদের মধ্যে প্রায় তিনভাগের একভাগই ভারতের। মেয়ে হয়ে জন্মানোর অপরাধেই
প্রত্যেক বছর ১ কোটির বেশি কন্যাসন্তানকে গর্ভাবস্থায় বা জন্মানোর পরেই হত্যা করা
হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনটাই সম্প্রতি জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক জারি করা একটি বিবৃতিতে দেখা যাচ্ছে।
সূত্রের
খবর,
২০১৩
থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র নারী হয়ে জন্মানোর অপরাধে মেরে ফেলা হয়েছে প্রায় ১৪
কোটি কন্যাসন্তানকে। তারমধ্যে প্রায় ২৮.৫ শতাংশই ভারতের বলে জানা যাচ্ছে।
জাতিসংঘের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংস্থা (ইউএনএফপিএ) রিপোর্ট মোতাবেকওই সময়ে
প্রবসকালীন সময়ে বা প্রসবের পরে ৪ কোটি ৬০ লক্ষ কন্যাসন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে।
ইউএনএফপিএ-র
স্টেট অফ ওয়ার্ল্ড পপুলেশন ২০২০ রিপোর্টে আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে দেখা
যাচ্ছে প্রতি হাজার কন্যাসন্তানের মধ্যে ১৩.৫ জনেরই হত্যা করা হয় ভারতে। ওই
রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে ভারতে প্রতি ন'জনের
মধ্যে ১ জন শিশু কন্যাকে তার জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যেই মেরে ফেলা হয়। এরপ্রধান কারণ
হিসাবে প্রসবকালীন লিঙ্গ নির্ধারণকেই কাঠগড়ায় তুলেছে জাতিসংঘ।
ওই
রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে সদ্যজাত কন্যাসন্তানের মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে সবার উপরে
রয়েছে ভারত ও চিন। লিঙ্গ নির্ধারণের কারমে যাদেরকে জন্মের ঠিক পরেই হত্যা করা
হয়েছে। প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ লক্ষ সদ্যজাত কন্যাসন্তান হত্যার মধ্যে ৯০ থেকে ৯০
শতাংশই এই দুই দেশ থেকে হয়। ওই রিপোর্টেই বলা হচ্ছে গত ৫০ বছরে কন্যা সন্তান
হত্যার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুন হয়েছে।
সূত্রের খবর,
ভারতে
প্রায় ৫১ শতাংশ তরুনী এখনও নিরক্ষর রয়ে গেছেন। পাশাপাশি ১৮ বছরে বিয়ে হয়ে যাওয়া
মহিলাদের মধ্যে শুধুমাত্র ৪৭ শতাংশ মহিলার প্রাথমিক শিক্ষা রয়েছে। অন্যদিকে ওই
মহিলাদের মধ্যে ২৯ শতাংশ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে। পাশাপাশি তাদের
মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ মাধ্যমিক পরবর্তী শিক্ষা রয়েছে।

Post a Comment