এবারের কোরবানির ঈদে সাড়া ফেলতে আসছে ‘রাজকুমার’! - The News Lion

এবারের কোরবানির ঈদে সাড়া ফেলতে আসছে ‘রাজকুমার’!






ঢাকা প্রতিনিধি : এবার এমন মুসলমানদের কোরবানির ঈদ সামনে এলো যখন সারা বিশ্বই এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারপরও সীমিত পরিসরে হলেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা কোরবানির ঈদ উদযাপন করবে।





বাংলাদেশের কক্সবাজারের কোরবানির পশুর হাট এখনো জমে ওঠেনি। তার আগেই পুরো এলাকা জুড়ে সাড়া ফেলেছে ‘রাজকুমার’। বিশাল আকৃতির এ গরুটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ লোকজন ও ক্রেতারা ভিড় করছেন। এই গরুটি কিনতে চট্টগ্রামসহ বাংলদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দুই ডজন ব্যক্তি যোগাযোগ করেছেন।







গত তিন বছর ধরে লালন-পালন করা ৩০ মণের (১২০০ কেজি) অধিক ওজনের বিশাল এই গরুটির দাম হাঁকানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত রাজকুমারের দর উঠেছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। রাজকুমার এবারের কোরবানির পশুর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বলে দাবি করেন গরুর মালিক বাদল।





জানা গিয়েছে, তিন বছর আগে বাদলের খামারেই রাজকুমারের জন্ম হয়। গত কোরবানির ঈদে এই গরুটির ওজন ছিল প্রায় এক টন। সেই সময় রাজকুমারকে উপজেলার বড় একটি কোরবানির পশুর হাটে উঠানো হয়। সেখানে ক্রেতারা এ গরুটির দাম ৮/৯ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খামারি বাদল বেশি দামের আশায় গরুটি তখন বিক্রি করেননি।






সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশ কাটা এলাকার কৃষক আবু ওবাইদ বাদল কৃষি কাজের পাশাপাশি নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ডেইরি ফার্ম। বর্তমানে তার ফার্মে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলে ৪৪টি গরু রয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য দুই কোটি টাকা। বাদলের ডেইরি ফার্মে বেড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় গরুটির নাম রাজকুমার। পরম যত্নে গরুর মালিক বাদল ও তার কর্মচারীরা মিলে তিন বছর ধরে তাকে কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে লালন-পালন করেছেন। জন্মের কিছুদিন পর শখ করেই গরুটির নাম রাজকুমার রেখেছিলেন বাদল।






ডেইরি ফার্মের মালিক আবু ওবাইদ বাদল বলেন, রাজকুমার শুধু নামে নয়, তার খাবার-দাবারও অন্যান্য পশুর চেয়ে আলাদা। গরুটির পরিচর্যা করতে আমি ছাড়াও একজন আলাদা কর্মচারী রেখেছি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সার্বক্ষণিক পরামর্শক্রমে কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করেছি। রাজকুমারকে নিয়মিত খড়, ভূষি ছাড়াও তাকে খাওয়ানো হয় কমলা, মাল্টা, চিড়া, সয়াবিন, গুড়সহ নানা রকমের খাবার। খাবার বাবদ প্রতিদিন তার পেছনে খরচ হয় প্রায় দেড় হাজার টাকার মতো। রাজকুমার গরম সহ্য করতে পারে না। তাই তার জন্য রাখা হয় চারটি ফ্যান।






তিনি বলেন, গত কোরবানির ঈদে গরুটিকে বাজারে উঠানো হয়েছিল। তখন গরুটির ওজন ছিল ২৫ মণ। আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় গত বছর বিক্রি করিনি। এবার গরুটির ওজন হয়েছে ৩০ মণেরও বেশি। রাজকুমারকে আরও এক বছর লালন-পালন করতে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এবার করোনা মহামারি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। অন্তত এ কোরবানির সময় গরুটিকে ভালো দামে বিক্রি করতে পারলেই লালন-পালনের পরিশ্রম স্বার্থক হবে।







চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী বলেন, কৃষি কাজের পাশাপাশি গরুর ডেইরি ফার্ম করে স্বাবলম্বী হন বাদল। তার ফার্মে বেড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় গরু রাজকুমারকে দেশীয় খাবার খাইয়ে সঠিক পরিচর্যায় ও প্রাণিসম্পদ অফিসের তদারকিতে লালন-পালন করে বড় করেছেন তিনি। এই গরুটিকে নিয়মিত দেখাশোনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এ গরুর ওজন ১২শ' কেজির ওপরে।উপজেলায় রাজকুমার এখন সবচেয়ে বড় গরু বলেও জানান ডা. সুপন নন্দী।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.