বাতাসে ছড়াচ্ছে করোনা, নতুন স্বাস্থ্যবিধি ঘোষনা করলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বাতাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে পড়ছে করোনা। বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণার সাথে শরীরে প্রবেশ করে করোনার বাসা বাঁধার ঘটনা সামনে এসেছে। আর তার জেরেই নতুন করে গাইডলাইন প্রকাশ করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(হু)।
বাতাসে ভাসমান আণবিক কণা বা এরোসলের সাথে করোনা ভাইরাসের সম্পর্কের বিষয়ে আরও উন্নতমানের গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানায় হু। বাতাসের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের বিশদ গবেষণার পক্ষে সওয়াল নতুন গাইডলাইনে হু-এর তরফে জানান হয়েছে, রেস্তোরাঁ ও ব্যায়ামগারের ন্যায় আবদ্ধ পরিবেশেও করোনা সংক্রমণের ঘটনা ঘটার ফলে বাতাস মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কথা জানা যাচ্ছে।
পাশাপাশি এই মুহূর্তে এই বিষয়ে উন্নতমানের গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে মত তাদের। এছাড়াও উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না হু। হু-এর গবেষকদের মতে, একসাথে অনেক মানুষ যেখানে আছেন, সেইখানে উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তের উপস্থিতি সংক্রমণ ছড়ানোর কারণ হতে পারে।
প্রধানত শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটানোর বৈশিষ্ট্য আছে করোনা ভাইরাসের। সেখানে বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ একটা বড় ভূমিকা রাখছে বলে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে। আর তাই বিশ্বের প্রায় ২০০ বিজ্ঞানী এই আশঙ্কা প্রকাশ করে হু-এর কাছে অবিলম্বে নতুন গাইডলাইন প্রকাশের সুপারিশ জানায়।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদ জোস জিমেনেজ। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান "এতদিনে সঠিক পথে গবেষণা এগোচ্ছে। এটা অন্তত স্পষ্ট যে করোনা ভাইরাসের এই বিপুল সংক্রমণের অন্যতম মাধ্যম অবশ্যই বাতাস। " বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ রোখার জন্যে হু-এর নতুন গাইডলাইন।
হু-এর নতুন গাইডলাইনে বলা হয়েছে, বায়বীয় সংক্রমণ রুখতে গেলে ভিড় এড়ানো প্রয়োজন। বিল্ডিংয়ে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা একান্ত সম্ভব না হলে মাস্ক বাধ্যতামূলক। যেহেতু করোনা সংক্রমণ মূলত সংক্রামিত স্থান বা সংক্রামিত ব্যক্তির লালারস, কফ, হাঁচি বা কাশির সাথে নিঃসৃত মিউকাস থেকে ছড়ায়, তাই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাই একমাত্র পন্থা।
এছাড়াও উপসর্গযুক্ত ও উপসর্গহীন আক্রান্তদের কথা মাথায় রেখে সতর্ক হওয়া উচিত। শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ রুখতে গেলে প্রথমেই মাস্ক ছাড়া বাইরে বেরোনো বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও কমপক্ষে ৩ ফুটের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে।
অপ্রয়োজনীয়ভাবে মুখের বিভিন্ন অংশ স্পর্শ করা বন্ধ করতে হবে। জনবহুল স্থান বা বায়ু চলাচল করতে পারে না এমন জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে। কর্মক্ষেত্র হোক বা গৃহ, দিনের শেষে জীবাণুমুক্ত বাধ্যতামূলক করতে হবে।
এছাড়াও দেহের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাকে অটুট রাখার জন্য সঠিক বৈষম্যের আহার এবং যোগব্যায়াম করতে হবে বলে জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

Post a Comment