বাংলাদেশের পণ্য ঢুকছে না ভারতে, অচল বেনাপোল বন্দর - The News Lion

বাংলাদেশের পণ্য ঢুকছে না ভারতে, অচল বেনাপোল বন্দর






ঢাকা প্রতিনিধি : আবারও অচল হয়ে পড়ল বেনাপোল বন্দর। বাংলাদেশের বৃহৎ এ স্থলবন্দর থেকে দেশটির সরকার প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে।



করোনাভাইরাসের কারণে টানা ৭৬ দিন বন্দর বন্ধ থাকার পর নানা চেষ্টায় ৭৭ দিনের মাথায় ভারতীয় পণ্য আসা শুরু হয়। কিন্তু এরপর একশ দিন পার হলেও ভারত বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য নেয়নি, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। আর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রপ্তানি পণ্য না নেওয়ায় গতকাল বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানিকারকরা এক হয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন আমদানি বাণিজ্য কার্যক্রম।





বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মফিজুর রহমান সজন সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখিয়ে ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্যগ্রহণ করছে না। ফলে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে গেলেও রপ্তানি হয়নি কিছুই। এমনিতেই ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। একতরফাভাবে রপ্তানি আটকে রাখায় আরও বাড়ছে এ ঘাটতি।





তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বন্ধ থাকায় ২৪ জুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিব আলাপন ভট্টাচার্যের কাছে আমরা চালুর ব্যাপারে আবেদন করেছি। এ বন্দর দিয়ে রপ্তানি চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই দ্রুত রপ্তানি চালু করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এ চিঠি দিয়েছি।




সজন বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আমরা বহু দেন-দরবার করেও বাংলাদেশের পণ্য ভারতে রপ্তানি করতে ব্যর্থ হয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।





বেনাপোল বন্দর সূত্রগুলো বলছে, করোনাভাইরাসের মধ্যে আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর গত ৭ জুন থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য। 






এতে ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় বেনাপোল বন্দরে প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক রপ্তানিযোগ্য পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রোদ, বৃষ্টিতে যেমন পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে তেমনি ব্যবসায়ীদের লোকসানের পাল্লাও ভারি হচ্ছে। 





এ অবস্থায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা স্থলপথে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য সচলের জন্য বার বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। আমদানিতে ‘হ্যাঁ’ বললেও রপ্তানিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘না’ বলেই চলেছে। আমদানি উন্মুক্ত হওয়ার পর গত ৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভারত থেকে চার হাজার ২০০ ট্রাক পণ্য বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। অথচ একটি রপ্তানি ট্রাকও গ্রহণ করেনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।







ভারতীয় ব্যবসায়ীর বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার আমদানি-রপ্তানির অনুমতি দিলেও রাজ্য সরকারের একক সিদ্ধান্তের কারণে রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে না। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ভারতের রাজ্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি না করলে এর সুরাহা হবে না। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে রপ্তানি বন্ধ। পণ্যের রপ্তানি অর্ডার আসছে। কিন্তু পাঠানো যাচ্ছে না। রপ্তানির জন্য তৈরি করা কোটি কোটি টাকা মূল্যের পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।





বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপনকুমার চক্রবর্তী জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের রপ্তানি পণ্য প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের একাধিকবার বলেছি রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে। কিন্তু লকডাউনের অজুহাতে তারা রফতানির অনুমতি দিচ্ছে না। করোনার কারণে সেখানে লকডাউনের সময় বাড়িয়ে ৩১ জুলাই করেছে।





ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স স্থলবন্দর সাব-কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে অবহিত করেছি। তারা বলেছেন, স্থলবন্দরগুলোতে রপ্তানিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট আলোচনা চলছে। 






গভর্নমেন্ট লেভেলে বিষয়টি দেখভাল হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে। আশা করছি শিগগিরই সুরাহা হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.