পুলিশি তৎপরতায় পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় সর্বাত্মক সাপ্তাহিক দ্বিতীয় দিনের লকডাউন - The News Lion

পুলিশি তৎপরতায় পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় সর্বাত্মক সাপ্তাহিক দ্বিতীয় দিনের লকডাউন





শুনশান  রাস্তা, বন্ধ যানবাহন,খোলেনি দোকান, বসেনি বাজার- করোনা মোকাবিলায় রাজ্যজুড়ে সর্বাত্মক সাপ্তাহিক দ্বিতীয় দিনের লকডাউন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ ছবিটা সর্বত্র এক।







পুলিশি তৎপরতায় ঘরবন্দি জনতা। লকডাউন ভেঙে পথে বেরিয়ে এদিনও আটক শতাধিক। আইন ভেঙে বেচাল দেখলেই কড়া হাতে মোকাবিলা করেছে পুলিশ। সাপ্তাহিক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে শনিবার সকাল থেকে প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলায় ভোর ৬  টা থেকে ব্যারিকেড করে নজরদারি শুরু করেন পুলিশকর্মীরা।






গত বৃহস্পতিবারের মতো এদিনও ওসি, আইসি, এসডিওরাও পথে নামেন। জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বা অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বেরোলেই কড়া পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় পুলিশকে। গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়।  কলকাতার পর রাজ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে উত্তর ২৪  পরগনায়। এই জেলায় শনিবার ভোর থেকে অত্যন্ত কঠোর ভাবে লকডাউন করে পুলিশ।







ব্যারাকপুর কমিশনারেটের বিভিন্ন জায়গায়, বারাসাত, বনগাঁ থেকে নৈহাটি কাঁচরাপাড়া সর্বত্র পথে নেমে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রয়োজনীয় কারণ ছাড়া পথে বেরোলেই কড়া পদক্ষেপ নেয় তারা। বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয় লকডাউন ভাঙ্গার অপরাধে। বারাসাত,বনগাঁ তে কিছু দোকান ভোরের দিকে খোলার খবর পেয়ে সেখানে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। বন্ধ করে দেয়া হয় দোকান। সতর্ক করা  হয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।







উত্তর ২৪ পরগনার পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও ছড়িয়েছে করোনা সংক্রমণ। এই জেলার সোনারপুর,মহেশতলা, কুলতলি,ক্যানিং সর্বত্রই তৎপর ছিল প্রশাসন। বারুইপুর, সোনারপুরে লকডাউন ভাঙ্গায় বেশ কয়েকজনকে কান ধরে উঠবস করায় পুলিশ। বিষ্ণুপুরে পুলিশের তাড়া খেয়ে কয়েকজন লকডাউনভঙ্গকারি পুকুরে ঝাঁপ দেয়। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। হুগলিতে প্রশাসনিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলা সদর চুঁচুড়া, চন্দননগর শ্রীরামপুর সহ সমস্ত জায়গায় ভোর থেকে পুলিশ অভিযান চালায়।






যেখানেই দোকান বাজার খোলা ছিল তা বন্ধ করে দেয়া হয়। অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরোলে কড়া ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। নদীয়ার কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ, শান্তিপুর, রানাঘাট, চাকদহ, কল্যাণীতে চলছে লকডাউন।  দোকান ,বাজার  বন্ধ করে রেখেছেন ব্যাবসায়ীরা। বন্ধ আছে বিভিন্ন  মন্দির। অন্যদিকে জরুরী পরিষেবা হিসাবে খোলা রয়েছে বিভিন্ন ওষুধের দোকান, হাসপাতাল। এদিন লকডাউন অমান্য করায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।






বীরভূম জুড়ে শনিবার সকাল থেকেই তৎপর বীরভূম জেলা পুলিশ। বাড়ির বাইরে অকারণে বেরোলেই আটক করা হচ্ছে।  রামপুরহাট,বোলপুর, সিউড়িতে করা হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। এদিন সকাল থেকেই বাঁকুড়া শহরের সমস্ত দোকান বাজার ছিল সম্পূর্ণ বন্ধ। সকাল থেকে বাঁকুড়া শহরের প্রধান সড়কের উপর থাকা পেট্রোলপাম্প মোড়,  মাচানতলা মোড়,  রানীগঞ্জ মোড় ও বি ফাঁড়ি মোড় ব্যারিকেড দিয়ে সিল করে দেয় পুলিশ।






 উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি,কোচবিহার,বালুরঘাট,মালদা,রায়গঞ্জেও চলছে কড়া লকডাউন। মালদার বেশকয়েকটি পুরসভা অঞ্চলে আগে থেকেই লকডাউন চলছিল বৃহস্পতিবার গোটা মালদা জুড়েই তৎপর ছিল পুলিশ এখানেও লকডাউন ভেঙে বাড়ির বাইরে বেরোনো বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয় কোচবিহারে সকাল থেকে কড়া অভিযান চালায় পুলিশ।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.