ফুটপাতের কিশোরী মাধ্যমিকে ‘সেরা’ নম্বর পাওয়ায় ফ্ল্যাট উপহার পেল
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে এক দিন মুজুর পরিবারের মেয়ে ভারতী খান্ডেরকর প্রমাণ করেছে, ইচ্ছা ও প্রতিভা থাকলে দারিদ্রতা পড়াশোনার ক্ষেত্রে হয়তো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। মাধ্যমিকে ফার্স্ট ডিভিশন পাওয়ায় তাঁকে একটা গোটা ফ্ল্যাট উপহার দিল ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। ইন্দোরের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রশান্ত দিঘে জানিয়েছেন, “ইন্দোরের একটি মেয়ে যে কিনা ফুটপাতে থাকে, সে মাধ্যমিকে ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করেছে। কমিশনার এই বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁকে একটি ১ বিএইচকে ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছেন।
পাশাপাশি মেয়েটি যাতে নিখরচায় আরও পড়াশোনা করতে পারে, সে ব্যবস্থাও করা হবে। ইতিমধ্যে তাঁকে টেবিল, চেয়ার, বই, জামাকাপড়ও দেওয়া হয়েছে।” ইন্দোর পৌর কমিশনার প্রতিভা পালের নির্দেশের পরেই সিটি ইঞ্জিনিয়ার মহেশ শর্মা ভারতী খন্দেকারের পরিবারকে তাঁদের নতুন বাড়ির খবর জানায়। ভারতী মাধ্যমিকে ৬৮% নম্বর পেয়েছে। নতুন বাড়ি পাওয়ার পরে ভারতীর বাবা দশরথ খান্ডেরকরের খুশি এই মুহূর্তে বাধন ছাড়া। তিনি জানিয়েছেন, কখনও স্কুলে না গেলেও তিনি তার সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। শিবাজি মার্কেটের ফুটপাথের সামনের দিকে একটি কুঁড়েঘরে তাঁরা থাকতেন। তবে তাও ভেঙে ফেলা হয়েছিল।
তাঁর বাবা জানিয়েছেন, “আমার স্ত্রী এবং আমি প্রতিদিন মজুরীর কাজ করি। সকালে আমি কাজ করতে যাই এবং আমার স্ত্রী একটি স্কুলে ঝাড়ুদার হিসাবে কাজ করে। ভারতী তার ছোট ভাইদের দেখা শোনা করে, পরে আমরা দিনের শেষে ফিরলে সে রাত ১ টা পর্যন্ত পড়াশোনা করে।” সারারাত মা ও বাবা মিলে পালা করে জেগে থেকে ভারতীর দিকে নজর রাখে। ভারতী নিজেও তার সাফল্যের কৃতিত্ব বাবা মা ও তার শিক্ষক এবং পরামর্শদাতাদের দিয়েছে। এভাবেই দারিদ্রতার সঙ্গে মেধার লড়াই সবসময়ই হয়ে এসেছে। আজকের না, এ লড়াই কয়েক শতক পুরনো। প্রতিভাবানেরা অবশ্য চিরকালই গোল দিয়েছে দারিদ্রতাকে। এবার সেই একই ছবি উঠে এল কোনও ব্যাতিক্রমী নয়।
Post a Comment