করোনায় ব্যয়ভার মেটাতে না পারায় বিক্রি হচ্ছে আস্ত একটি স্কুল !
ঢাকা প্রতিনিধি : তদবির আহমদ। একজন স্বপ্নবাজ যুবক। ২০০৪ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিং এলাকায় ফুলকুঁড়ি কিন্ডার গার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্লে গ্রুপ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হওয়া এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পড়ুয়া রয়েছেন দুই শতাধিক। দীর্ঘদিন থেকেই সুনামের সঙ্গে চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস ওলট-পালট করে দিয়েছে সবকিছু।
ব্যয়ভার মেটাতে না পারায় স্কুলটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তদবির আহমদ নামের স্বপ্নবাজ সেই যুবক। দীর্ঘ একমাস থেকে মোহাম্মদপুর এলাকার রাস্তার পাশের বিভিন্ন দেয়ালে সাঁটাচ্ছে আসবাপত্রসহ স্কুল বিক্রির পোস্টার। কিন্তু পাচ্ছেন না কোনো ক্রেতা। তদবির আহমদের স্কুল ছাড়াও ঢাকার অলি-গলিতে দেখা যাচ্ছে এমন অনেক স্কুল বিক্রির পোস্টার!
তদবির আহমদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক প্রায় চার মাস থেকে স্কুলটি বন্ধ রয়েছে। অভিভাবকরা বেতনাদি দিচ্ছেন না। ফলে স্কুলের ভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছি না। আমি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না থাকায় স্কুলের ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছি।
আর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেশে কতদিন থাকবে তাও নিশ্চিত হয়। সবকিছু চিন্তা করে স্কুলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি স্কুল চালাতে আগ্রহী হন তাহলে স্কুলটি তার হাতে তুলে দেব। রাজধানীজুড়ে এমন স্কুল কিংবা কিন্ডার গার্টেনের সংখ্যা হাজারেরও ওপর।
করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকে এসব স্কুলের মালিক পড়েছেন চরম বিপাকে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে বেতন পেতেন সেটা দিয়েই শিক্ষকদের সম্মানীসহ সব খরচ মিটিয়ে নিজের কাছে কিছু থাকত। কিন্তু গত প্রায় ৪ মাস থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। খুলবে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউই।

Post a Comment