লকডাউনের জেরে প্রতিবন্ধীরা আজ হস্তশিল্পী ছেড়ে অন্য পেশায়
ইলা, শুলতা, সুনিতা, স্বপ্না, জ্যোতি, শীমারা আজ অন্য পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছে, এরা সবাই প্রতিবন্ধী। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার শিল্প- সাথী এই সংস্থা ৮০০জন হস্ত্র শিল্পী রয়েছে, তারমধ্যে প্রায় ৪০০ প্রতিবন্ধী শিল্পী আছে।
বিভিন্ন শিল্প সঙ্গে যুক্ত,কেউ শোলা, আবার কেউ পাট, পুথি, মৃৎশিল্প, সেলাই কাজ আবার কেউ বাড়িতে বসে গ্লাস প্রিন্টিংয়ের কাজ করে। রং তুলি ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে তাদের হাতের শিল্পকলা। সবমিলিয়ে এই তিন মাস লকডাউন এর জেরে বিপাকে বসিরহাট মহকুমার হস্ত্র শিল্পীরা।
যারা এক সময় সারা বছর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে তাদের শিল্পকলা তুলে ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো ।তারা আজ অন্য পেশায়, কেউ স্যানিটাইজার মাক্স তৈরি করছে,আবার কেউ বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে, যত দিন যাচ্ছে রুজি রোজগার হারাচ্ছে। সব মিলিয়ে যত সময় যাচ্ছে তত অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে, এই সব শিল্পীদের।
যারা একসময় তাদের হাতের নৈপুণ্যতা মধ্য দিয়ে বিভিন্ন রকমের শিল্পের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলতো, যেমন চটের ব্যাগ, পুথি সেলাইয়ের কাজ, শোলার টোপর থেকে গ্লাস পেইন্টিং আবার কেউ মৃৎশিল্পের রং তুলির ক্যানভাস এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন পুতুল তৈরি করে মেলায় নিয়ে যেত।আজ সেটা বন্ধ, টান পড়েছে পেটে।
তাই সেই পেটের জ্বালায় তারা আজ অন্য পেশায় যাওয়ার চিন্তাভাবনা। সরকার যদি এদের পাশে না দাঁড়ায় হয়তো এদের শিল্পকলা চিরতরে বন্ধ হতে পারে, তাদের ব্যকুল আবেদন সরকার ও প্রশাসন যেন তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় ।একসময় শিল্পীরা এই শিল্পকলার মধ্য দিয়ে রোজগার করে দৈনন্দিন জীবন কাটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া জীবন-জীবিকার চালাত।
২০০৯ সাল থেকে প্রায় ১১ বছর ধরে নিজেরাই স্বনির্ভর হয়ে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছিলো। আজ সব বন্ধ। তাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব দুর্বিষহ নেমে আসতে চলেছে। তাই তারা জীবন বাঁচানোর তাগিদে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত হতে চলেছে, কিন্তু সেখানেও কি সুরাহা মিলবে?

Post a Comment