মুরগির মাংস ধুয়ে রান্না করলে মারাত্মক ক্ষতি
বাজার থেকে মাংস কিনে এনে কে না ধুয়ে রান্না করে। এমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। সবাই মনে করেন, মুরগির মাংস না ধুলে বিভিন্ন রকম ব্যাকটেরিয়া মাংসে থেকে যেতে পারে। এছাড়া মাংসের যে ত্বক থাকে, সেটা না পরিস্কার করে সরিয়ে অনেকেই খেতে চান না। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, মাংস ধুয়ে খেলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। মাংস কখনই রান্নার আগে ধোয়া উচিৎ নয়। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
গবেষণা বলছে, যদি মাংস ধোয়া হয়, সেক্ষেত্রে মাংসের গায়ে থাকা ব্যাকটিরিয়া ছিটকে যাওয়া জলের সঙ্গে ঘরের মধ্যে অনেক দূর অবধি ছড়িয়ে পড়তে পারে। পোশাকেও ঢুকে যেতে পারে সেই ব্যাকটিরিয়া। আর সেই ব্যাকটিরিয়ায় হতে পারে ভয়ঙ্কর ক্ষতি। এইসব ব্যাকটিরিয়ার নাম ক্যাম্পাইলোব্যাকটর ও সালমোনেলা। এগুলি থেকে হতে পারে পেটে যন্ত্রণা, ডায়েরিয়ার মত রোগ।
তাই ইউকে ন্যাশনাল হেল্থ সায়েন্সের গবেষণা অনুযায়ী, এইভাবে না ধুয়ে আসলে মাংসের ব্যাকটিরিয়া নষ্ট করা সম্ভব সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করে। ১৬৫ ডিগ্রিতে রান্না করলে তবেই মাংস সঠিকভাবে ব্যাকটিরিয়া মুক্ত হতে পারে। তবে যারা মাংসের ত্বকের হড়হড়ে অংশের জন্য ভালোভাবে ধুয়ে নেন, তাদের জন্য বলা হয়েছে যে মাংস শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে পরিস্কার করুন ও তারপর উপযুক্ত তাপমাত্রায় ফোটান। ফ্রিজে চিকেন রাখার সময় আবশ্যই ঢেকে রাখবেন। যে পাত্রা কাঁচা মাংস রাখবেন, সেটা অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে নেবেন। নিজের হাত গরম জল ও সাবান দিয়ে পরিস্কার করুন। তবেই বাঁচতে পারবেন ব্যাকটিরিয়া থেকে
এখন দেখে নেওয়া যাক মুরগির মাংসের মধ্যে আর কী কী গুণ রয়েছে।
মুরগির মাংস ও ডিম প্রোটিনের অন্যতম উৎস। এছাড়াও মুরগির মাংসে রয়েছে নানা অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।
বিষণ্নতা দূর করে
মুরগির মাংসে উচ্চমাত্রায় “ট্রাইফটোফ্যান” নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। ফলে এক বাটি চিকেন স্যুপ স্বস্তি এনে দিতে পারে। বিষণ্নতাবোধ হলে কয়েকটি চিকেন উইংস খাওয়া যেতে পারে। যা মস্তিষ্কে সেরেটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করে।
হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করে
বয়স্কদের আর্থ্রাইটিস ও হাড় সংক্রান্ত অন্য রোগের আশঙ্কা বেশি থাকে কিন্তু ভয়ের কিছু নেই। প্রতিদিন মুরগির মাংস খাবার তালিকায় রাখলে এর প্রোটিন হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করবে।
হার্টের জন্য ভালো
মুরগির মাংস হোমোকিস্টাইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্টের বিভিন্ন ধরনের কার্ডিওভাস্কুলার রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। হোমোকিস্টাইন একটি অ্যামিনো অ্যাসিড। উচ্চমাত্রায় এটি হার্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
ফসফরাসের প্রাচুর্য
মুরগির মাংস ফসফরাস সমৃদ্ধ হওয়ায় দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এছাড়া ফসফরাস কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
চোখ ভালো রাখে
অন্য খাবারগুলোর মতো মুরগির মাংসও চোখের সুরক্ষায় কাজ করে। মুরগির মাংসে রেটিনল, আলফা ও বিটা ক্যারোটিন, লাইকোপেন থাকে যার সবগুলোই ভিটামিন “এ” তে পাওয়া যায়। চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এগুলো জরুরি উপাদান।
হজমে সাহায্য করে
মুরগির মাংসের ভিটামিন বি-৬ শরীরে বিপাকের মাত্রা উন্নত করে। শরীরে চর্বি না বাড়িয়েই খাবার হজম করতে পারে। রক্তনালী ঠিক রাখতেও এটি কাজ করে।
নিয়াসিন সমৃদ্ধ
শরীরকে ক্যান্সারমুক্ত রাখতে নিয়াসিন একটি প্রয়োজনীয় ভিটামিন। মুরগির মাংসে প্রচুর পরিমাণে নিয়াসিন থাকে, যা বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার ও ত্রুটিপূর্ণ ডিএনএ দ্বারা যেসব জিনগত সমস্যা তৈরি হয় তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
Post a Comment