কবে থেকে ঘরে ঘরে পূজিত হল বিপত্তারিণী
বিপত্তারিণী হলেন দেবী দুর্গা ১০৮ অবতারের অন্যতম এবং সঙ্কটনাশিনীর একটি রূপ। হিন্দুরা মূলত বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য এই দেবীর পূজা করে থাকে। আষাঢ় মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে হিন্দু মহিলারা বিপত্তারিণী ব্রত পালন করেন। বিপত্তারিণী হলেন পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা রাজ্য এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পূজিত এক হিন্দু দেবী। দেখা যায় জগন্নাথদেবের রথ এবং উল্টো রথের মধ্যে মঙ্গল বা শনিবারে এই পুজো হয়। এই বছর ২০২০ সালে ২৭ জুন বা বাংলার ১২ আষাঢ়, শনিবার এবং ৩০ জুন অর্থাৎ বাংলার ১৫ আষাঢ়, মঙ্গলবার বিপত্তারিণী ব্রত পড়েছে।
বিপত্তারিণীর পূজা হিন্দু নারীরা ব্রতের আকারে পালন করেন। এই ব্রতে পাঁচালি আকারে বিপত্তারিণীর কিংবদন্তিটি পাঠ করা হয়। মল্লভূম রাজ্যের (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত বিষ্ণুপুর, খ্রিস্টীয় ৭ম থেকে ১৮শ শতাব্দী পর্যন্ত এই রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল) রানির এক সখী ছিলেন নিম্নবর্ণীয় মুচির ঘরের মেয়ে। মুচিরা মাঝে মাঝে গোমাংস খেত।
এই কথা শুনে রানি খুব ভয় পেয়ে যান। কারণ, হিন্দুধর্মে গোমাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। তবে একবার কৌতূহলী হয়ে রানি গোমাংস কেমন হয় তা দেখতে চান। একদিন রানি তার সখীকে তাঁর এই ইচ্ছার কথা জানান। সখী প্রথমে দেখাতে অস্বীকার করেন। কারণ এতে ধর্মপ্রাণ রাজা রেগে যেতে পারেন বলে তাঁর ভয় হয়। কিন্তু পরে বাধ্য হয়ে তাকে রানির অনুরোধ রাখতেই হয়। কিন্তু কেউ রাজাকে এই খবর জানিয়ে দেয়।
তখন রাজা রানিকে হত্যা করতে আসলে রানি নিজের কাপড়ে তলায় গোমাংস লুকিয়ে রেখে দেবী দুর্গার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। রাজা এসে তাঁর কাপড় ছিঁড়ে দেখতে চান ভিতরে কি আছে। তিনি দেখেন, সেখানে একটি লাল জবা ফুল রাখা আছে। সেই থেকে আজও বিপত্তারিণী পূজা পারিবারিক সঙ্কট মোচনের জন্য হয়ে থাকে।
Post a Comment