বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে আমেরিকা - The News Lion

বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে আমেরিকা




করোনার দাপটের মধ্যেই আমেরিকায় জ্বলছে বিদ্বেষের আগুন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার এমন অগ্নিগর্ভ আমেরিকা।  পরিস্থিতি সামলাতে দেশের ৮টি প্রদেশে রাস্তায় নামানো হল ন্যাশনাল গার্ডকে। এ দিকে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুরুচিকর হুমকি দিলেও, তাতে আমল দিচ্ছেন না কেউ। দেশ জুড়ে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে।  ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক, লস আঞ্জেলেস, শিকাগো, মিয়ামির মতো সব বড়ো শহরেই জারি কার্ফু। তবে তার আগেই অবশ্য ছোট-বড়ো সব দোকান-বাড়িতে দিনভর চলে অবাধ ভাঙচুর, লুটপাট এমনকি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও।





সূত্রের খবর, বিক্ষোভ ঠেকাতে দেদার লাঠিচার্জের পাশাপাশি লঙ্কা-গুঁড়ো, রাবার-প্লাস্টিক বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটিয়েছে পুলিশ।গত সোমবার পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মারা যান ৪৪ বছর বয়সি জর্জ ফ্লয়েড। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়া ভিডিওয় দেখা যায়, এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশকর্মী ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু চেপে ধরে রেখেছেন। ফ্লয়েডকে শ্বাসকষ্টে ভুগতে দেখা যায়। তিনি বারবার নিজের শ্বাসকষ্টের কথা জানিয়ে আকুতি করলেও শোনেননি ওই পুলিশকর্মী।





  নিরস্ত্র ফ্লয়েডের ঘাড় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে রাখেন। এ সময় তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন আরও চার পুলিশকর্মী। এর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ফ্লয়েড। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ফ্লয়েডকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশকর্মীদের চিহ্নিত করা হয়েছে ও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো মিনেপোলিস। বিক্ষোভকারীরা ফ্লয়েডের হত্যাকারী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তির দাবিতে সরব হন। বিক্ষোভকারীরা শহরে একাধিক পুলিশ স্টেশন ভাঙচুর করেছে। 





মিনেপলিস থেকে ধীরে ধীরে গোটা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত শুক্রবার গোটা রাত হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে ট্রাম্পকে মাটির ভেতরে থাকা বাংকারে নিয়ে যেতে হয়।  দেশের ২২টি শহর থেকে এখনও পর্যন্ত ২০০০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও বিক্ষোভকারীরা অনড়। অশান্তি-মারামারির নিন্দা করলেও কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার রক্ষায় সরব হয়েছেন ভোটে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনও।





 ‘দম আটকে আসছে আমার’ ফ্লয়েডের ওই শেষ কথাই পোস্টার-প্ল্যাকার্ড হয়ে উঠে এসেছিল বেশ কিছু শহরের রাস্তায়। এখন দেখা যাচ্ছে একই কথা স্প্রে-পেন্টিং করে লেখা দোকানে-আবাসনে-দফতরে।  শিকাগো, নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তিতে জড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। ওয়াশিংটনের হোটেলে জ্বলেছে আগুন। পুড়েছে একাধিক গাড়ি, পুলিশেরও চারটি। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন।   

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.