ঘুরে আসুন হলং থেকে
‘জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল’। সুনীল
গঙ্গোপাধ্যায়ের কোন ও গল্প হয়তো মনে পড়ে যেতে পারে। প্রথম বার ডুয়ার্সে গিয়ে হলংকে দেখে তেমনটাই মনে হতে পারে। উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া জঙ্গলে হলঙের অবস্থান।
জলদাপাড়ার চেকপোস্টে পৌঁছে যাবতীয় সইসাবুদ করে গাড়ি ছাড়ার অনুমতি পাওয়া যায়। এন এইচ
৩১সি থেকে জঙ্গলের মধ্যে ৬ কিমি ভেতরে হলং বাংলো। বাংলোর সামনে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে
হলং নদী। নদীর ওপারে আছে সল্ট পিট। এখানে পশুরা লবণ খেতে আসে।
সন্ধেয় চারদিকের
নিস্তব্ধতার সঙ্গে চাঁদের আলো এক মায়াবী
পরিবেশের সৃষ্টি করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলের শব্দ অদ্ভুত থেকে
অদ্ভুততুড়ে পরিণত
হতে লাগে। এখানে
রাতের খাবার সময় সাড়ে আটটা। জঙ্গলের মধ্যে মোবাইলের নেটওয়ার্ক খুবই ক্ষীণ।
সারাদিনে হলং নদীর
বাঁধানো সিঁড়িতে বসে অগণিত ময়ূর, হরিণ, বাইসন, পায়রা, নাম
না-জানা পাখি দেখে সময় কেটে যেতে পারে। নিজেকে
কোলাহলপূর্ণ পৃথিবী থেকে বহুদূর গ্রহের একজন বলে মনে করতে চাইলে চলে আসতেই
পারেন হলংয়ে।
হলঙে ঘর আছে মোট ৮টি। এর মধ্যে ৫টি ঘর সাধারণ ট্যুরিস্টদের
জন্য। হলঙের নন–এসি রুমের ভাড়া ট্যাক্স ছাড়া ২৫০০ টাকা। ব্রেকফাস্ট, সন্ধের চা
এবং ডিনার জনপ্রতি ৪০০ টাকা। এলিফ্যান্ট রাইড জনপ্রতি ৮০০ টাকা। বাংলোর চেকইনের
সময় রাইডের ফর্ম ফিলআপ করে নেওয়া হয়। হলঙে আছে দু’টি ভিউ
রুম। এখান থেকে সল্ট পিট উপভোগ করা যায়। আগে আসার ভিত্তিতে ভিউ রুম দেওয়া হয়।
এখান থেকে ঘুরে দেখা যায় চিলাপাতা জঙ্গল, খয়েরবাড়ি
বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র, টোটোপাড়া, তিস্তা
ব্যারেজ ইত্যাদি।
কাছাকাছি রেল স্টেশন হাসিমারা এবং ফালাকাটা। কলকাতা থেকে
হাসিমারা যাওয়ার ট্রেন কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস। ফালাকাটা থেকে পাওয়া যাবে তিস্তা–তোর্সা, উত্তরবঙ্গ, কামরূপ
এক্সপ্রেস।
Post a Comment