যোগাসনের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য উপকারিতা
যোগাসনের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য উপকারিতা
অভ্যন্তরীণ ভাবে স্বাস্থ্যের উপকারিতা প্রদান করতে যোগাসনের ভূমিকা প্রবল। রক্ত সঞ্চালন থেকে শুরু করে শরীরের যেকোনো ব্যাথা বা কষ্ট কমাতে যোগ ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই।
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে:
প্রতিদিন নিয়ম করে যোগাসন করলে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেনের সঠিক চালনা হওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমে আসে। এতে শরীর ঠাণ্ডা হয়।
শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির সমস্যা কমাতে:
হাঁপানির টান বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে যোগাসন করার অভ্যেস করুন। এতে ফুসফুসের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে সঠিক ছন্দে আসে ও আরাম পাওয়া যায়।
গ্যাসের জন্যে ভাল:
প্রতিদিন যোগাসন করলে হজম ক্ষমতা বেড়ে যায় যার ফলে গ্যাসের সমস্যা সহজে সমাধান হয়। এছাড়া পেটের অন্যান্য সমস্যাও নিরাময় হয়।
রক্ত সঞ্চালন:
যোগাসনের সাহায্যে শরীরে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঠিকভাবে প্রবেশ করে। তাই রক্তসঞ্চালন সঠিকভাবে বজায় রাখা যায়। এর ফলে সমস্ত অঙ্গগুলি ঠিক করে কাজ করে ও ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আসে।
ধৈর্য্য শক্তি বাড়ে:
শরীরের নানারকমের ব্যাথা কমানো ছাড়াও, মস্তিস্ক শান্ত করতে সাহায্য করে যোগাসন। এর ফলে ধৈর্য্য ক্ষমতা বাড়ে ও মনের শান্তি বজায় থাকে।
শরীরে শক্তি ও সতেজতা আসে:
যোগাসনের মাধ্যমে শরীর নতুন করে শক্তি সঞ্চারিত হয় যার ফলে সতেজতা ফিরে আসে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে:
যোগাসন অভ্যাসের সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার যোগাযোগ রয়েছে। যোগাসনের সাহায্যে শরীরের কোষগুলি নষ্ট হওয়া রোধ করা যায় ও শরীর ধীরে ধীরে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরে পায়।
পাচনতন্ত্রের বিকাশ:
পাচনতন্ত্র যত সঠিকভাবে কাজ করবে, ওজন নিয়ন্ত্রণ করাও তত সহজ হবে। যোগাসন করার ফলে পাচনতন্ত্রের বিকাশ ঘটে।
ঘুম সঠিক হয়:
যোগাসনের মাধ্যমে মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা হয় যার ফলে মেজাজ শান্ত থাকে। এর জন্যে আপনি চাপমুক্ত থাকতে পারেন ও রাতে অনিদ্রার সমস্যা কেটে যায়।
কোলেস্টরল কমে আসে:
যোগাসনের ফলে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল থাকে ও রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। এই সব কিছুর কারণে কোলেস্টরল অনায়াসে নিয়ন্ত্রণ করা যায় ও ভালো কোলেস্টরল উৎপন্ন করা যায়।
শরীরে সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণে থাকে:
সোডিয়ামের অভাবে শরীরে নানারকমের সমস্যা দেখা যায় যেমন রক্তচাপ কমে যাওয়া, থাইরয়েড, ইত্যাদি। যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণে থাকে ও নানারকমের শারীরিক সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।
ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে আনা যায়:
ট্রাইগ্লিসারাইড শরীরে বেড়ে গেলে ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দেয়। তাই আজকাল ডাক্তাররা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষদের বিশেষ ধরণের যোগাসন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন যার ফলে ট্রাইগ্লিসারাইড কমে আসে।
লাল রক্তকণিকা বাড়াতে সাহায্য করে:
লাল রক্তকণিকার পরিমাণ সঠিক থাকা অর্থাৎ হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সঠিক থাকা। এর ফলে এনিমিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। যোগাসনের সাহায্যে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় ও লাল রক্তকণিকা বাড়তে শুরু করে।
এস্থেমা:
যোগাসনের দ্বারা শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে ফলে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির সমস্যা দূর হলে ফুসফুস সহজে কাজ করতে সক্ষম হয়। এর ফলে এস্থেমা বা ব্রঙ্কাইটিসের মত নানা সমস্যা সেরে যায়।
আর্থারাইটিস:
যোগাসন নানা ভঙ্গি ও দৈহিক কেরামতির দ্বারা করা হয় যার ফলে হাড়ের অনেক সমস্যা কমে যায় ও হার শক্ত হয়। এর ফলে আর্থ্রাইটিসে ভোগা মানুষদের জন্যে এটি খুব উপকারী।
ক্যান্সার:
বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে যোগাসন নিয়মিত করলে শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস হয় ও উন্নতমানের কোষ গঠিত হয়। এতে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমে যায়।
হার্টের অসুস্থতা কমে:
যোগাসনের দ্বারা শরীরের অক্সিজেনেশন অর্থাৎ শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ ভালো হয় যার ফলে হার্টবিটের রেট সঠিক থাকে। ফলে নানারকমের রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
ব্রঙ্কাইটিসের জন্যে ভাল:
ঠাণ্ডা লেগে শ্বাসকষ্ট, বুকে কফ জমে গেলে বা ব্রঙ্কাইটিস হলে মন দিয়ে যোগাসন করুন। খুব শীঘ্র ফলাফল পাবেন। এমনকি, রোজ যোগাসনের অভ্যেস করলে যাদের ব্রঙ্কাইটিসের ধাঁচ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এর প্রবণতা অনেকটা কমে আসে।
পিঠে ব্যাথা কমায়:
পিঠে ব্যাথা কমাতে দারুণ উপকারিতা প্রদান করে যোগাসন। প্রতিদিন ৩০ মিনিট পিঠ সোজা করে পদ্মাসন করলে খুব শিগ্রই পিঠের ব্যাথার উপশম হয়।
কোষ্টকাঠিন্য:
নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করলে শরীরের নিচের অংশে দারুন চাপ পরে ও পাচনতন্ত্র সঠিক হয়। এর ফলে কোষ্টকাঠিন্য রোধ করা যায়।
বন্ধ্যাত্ব বা রজোবন্ধ:
বন্ধ্যাত্বের কারণে যারা সন্তান জন্ম দিতে পারেনা, তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় যোগাসন খুব ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে থাকে। এমন অনেক যোগাসন আছে যা নিয়মিত করার ফলে বন্ধ্যাত্বের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া মহিলাদের রজোবন্ধ হওয়ার ফলে যেসব শারীরিক বা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলিও অনায়াসে সেরে যায়।
সাইনাস বা অন্যান্য এলার্জি:
বায়ু দূষণ বা অন্যান্য যে কোনো কারণে আজকাল প্রায় সকলেরই সাইনাস বা এলার্জির সমস্যা দেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রাণায়াম বা যোগাসন গুরুত্ব সহকারে করলে অনেকটা আরাম ও মুক্তি পাওয়া যায়।
মাইগ্রেনের জন্যে ভাল:
মাইগ্রেন বা সাইনাসের মত নানারকমের নার্ভের সমস্যার কারণ হল অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও চিন্তা। প্রতিদিন যোগ ব্যায়াম করলে স্নায়ু শান্ত হয় ও মাইগ্রেনের ব্যাথা নিয়াময় হয়।
Post a Comment