আমফান পরবর্তী বসিরহাটের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক বৈঠক স্বরাষ্ট্রসচিবের
থেমে গিয়েছে ‘আমপানের’ ধ্বংসলীলা। আমফান পরবর্তী বসিরহাটের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে বসিরহাট মহকুমা শাসকের দফতরে প্রশাসনিক বৈঠক সারলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব। স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশিএদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, রাজ্যের জয়েন্ট সেক্রেটারি সৌমেন বন্দোপাধ্যায়, উত্তর ২৪ পরগণার জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী, বসিরহাটের পুলিশ সুপার কংকর প্রসাদ বারুই, উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের সভাধিপতি বীণা মন্ডল ও বসিরহাটের মহকুমার শাসক বিবেক ভস্মে সহ জেলার স্বাস্থ্য, সেচ ও পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা।
বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবন লাগোয়া হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি ১ ও ২নং ব্লক, হাসনাবাদ ও মিনাখাঁ যেভাবে আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই বিপর্যয় শতাব্দীর নিদারুণতম বিপর্যয়। এটা আপনিও জানেন আমিও জানি।” ইতিমধ্যে বসিরহাট মহকুমার পাঁচটি ব্লকের প্রায় ৫০০টি এলাকায় নদী বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর জন্য ১১লক্ষ জলের পাউচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত শুকনো খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আগামী ৩ জুনের অর্থাৎ ভরা কোটালের মধ্যে জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে। যেখানে জল সরবরাহ নেই সেখানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। ইতিমধ্যে শহর বসিরহাট, টাকির মতো পুরসভাগুলিতে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সমস্যার সমাধান হয়েছে। এছাড়াও বারাসত থেকে হেমনগর পর্যন্ত প্রায় ১৩০কিলোমিটারের উপর রাস্তায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়েছিল, সেগুলি পরিষ্কার করা হয়েছে। ফলে যানবাহন স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারছে।
ইতিমধ্যে জলে ডুবে ও জলবাহিত রোগে এই মহকুমায় প্রায় শতাধিক গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মহকুমা থেকে এখনও ডায়রিয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রচুর ফসল নষ্ট হয়েছে, তারজন্য কৃষি লোনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বসিরহাট।
Post a Comment