শয্যাশায়ী অভিনেত্রীর চিকিৎসার অর্থ নিয়ে সংশয়ে পরিবারের
করোনার জেরে আর্থিক দিক থেকে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছেন সকলে। ভবিষ্যতে আরো কত বিপদ অপেক্ষা করছে তা এখনো কেউই বলতে পারে না। ঠিক কবে এই করোনা থেকে সম্পূর্ণ নিস্তার মিলবে তাও কেউ জানে না। আর এই সময় জানা গেল এককালের বহুল পরিচিত অভিনেত্রীর বর্তমান অবস্থা কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। এক কালে অভিনয় জগতের দীর্ঘ যাত্রাপথে কমল মিত্র,সাবেত্রী চট্টোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, জওহর রায়ের সঙ্গে ছবিতে কাজ করেছেন শ্রীমতি পাইন। কিন্তু এখন তার স্থায়ী ঠিকানা বিছানার একটা কোণ।
সর্বক্ষণ সেখানেই শুয়ে থাকেন শ্রীমতি দেবী। একটা পাস প্যারালাইজড অবস্থায়। শরীরে বাসা বেঁধেছে আরো অনেক রোগ। কিন্তু সেই রোগ চিকিৎসা করার মত যথেষ্ট সামর্থ্য নেই তার। কিভাবে চলবে বাকি দিনগুলো সেই নিয়ে সংশয় দিন কাটছে। গত কয়েকদিন আগে ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন শ্রীমতী পাইনের নাতনি আহেলি দাস। আহেলি ফেসবুকে একটি লম্বা পোস্ট করেছেন। দীর্ঘ ৫০ বছর অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরেও দারিদ্র্যের মধ্যে দিয়েই জীবন যাপন করেছেন অভিনেত্রী।
আহেলি লিখছেন, “অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসা হাজারটা হাত আজ নিজেরাই এড়িয়ে যাচ্ছে..স্বভাবসুলভ… সময়ের স্রোতে হাড়িয়ে যাওয়া হাজার হাজার শিল্পীর মাঝে ইনিও একজন। বাংলা সিরিয়ালে কমপক্ষে ২০-২২ বছর পরেও, সবমিলিয়ে ৫০ বছর অভিনয়ে জগতে যুক্ত থেকেও, ৭২ বছর বয়সে অটো-মেট্রো-অটোয় চেপে শুটিং এ যেতে হত…শ্রীমতি পাইন..আমার দিদা..” আহেলি পোস্ট থেকেই জানা যায় আজকে যে বৃদ্ধা বিছানার এককোণে পড়ে আছেন তিনি এক কালে বহু নামজাদা মানুষের সান্নিধ্যে কাজ করেছেন।
আহেলির কথায়, “আন্দাজ ১৯৭০ এর আশেপাশে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এর যে ছাত্রী সেইসময় সহকর্মী অজিত বন্ধ্যোপাধ্যায় এঁর সাথে চিঠি, অগ্রগতির মত অজস্র শ্রুতিনাটকের মাধ্যমে হাজার হাজার মনে জায়গা করার পর ক্রমানুসারে উৎপল দত্তের ‘রাইফেল’এর সৌদামিনী, শক্তি চ্যাটার্জীর পরিচালনায় জাহানারা, নীহাররঞ্জন গুপ্ত এঁর ময়ূরমহল এর পান্না, বাসবী নন্দী আর জওহর রায়-এর সাথে ‘নন্দা’,মলিনাদেবীর পরিচালনায় দূর্গেশনন্দীনি, চন্দন মুখোপাধ্যায়ের আর্তনাদ, গিরিশ ঘোষের নটী বিনোদিনীর আমোদিনী, এছাড়াও আরও অজস্র অজস্র অফিস ক্লাবের নাট্যমঞ্চে নিজের সমস্তটুকু দক্ষতা প্রদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে বহু নাম পেয়েছিলেন বটে,তবে যোগ্য মূল্য পাননি।
অভিনয় জগতের দীর্ঘ যাত্রাপথে কমল মিত্র,সাবেত্রী চট্টোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, জওহর রায়,সন্ধ্যারাণী, মাধবী মুখার্জী,সুমিত্রা মুখার্জী, উত্তম কুমার (শ্রীকান্তের উইল), বিশ্বজিৎ চট্ট্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘হরিশচন্দ্র শৈব্যা,সরুজবালা এবং কুলভুশন খারওন্দারের সাথে একই সেটে অভিনয় তুলে ধরার, মহুয়া রায়চৌধুরীর অত্যন্ত প্রিয় দিদি হওয়া সত্ত্বেও পড়ে আছেন বিছানার একপাশে। শারীরিক দিক থেকে মোটেই ভালো নেই শ্রীমতি পাইন।
কিন্তু চিকিৎসার জন্য যে পরিমাণ অর্থ দরকার তারও অভাব রয়েছে। “ডানদিক সম্পূর্ণ প্যারালাইসিড..কথা বলার ক্ষমতা একেবারেই নেই..না নিজে পাশ ফিরতে পারেন না ল্যাট্রিন টয়লেটের অনুভূতি আছে..সারাদিন বিছানায় শুয়ে অসহায় দৃষ্টিতে বাইরের দুটো গাছের পাতা দেখা ছাড়া আর যে কিছুই করার ক্ষমতা নেই তার..তাও লড়ছেন..ক্রমাগত লড়ছেন..এই অবস্থাতেও ইশারায় বোঝাচ্ছে কিভাবে আগামীকালের ফিজিওথেরাপিস্টের ফি জোগাড় হবে..কিভাবে মাইনে দেবে আয়াকে.. ওষুধই বা আসবে কোত্থেকে.. ডক্টর ফি..তাই বা পাই কোথায়!” শ্রীমতি দেবীর ডান দিক সম্পূর্ণ প্যারালাইজড। আর তার সঙ্গেই রয়েছে হাই ব্লাড সুগার। আহেলি তার পোস্টে লিখছেন, “সুগার ৪৩০।
লাংগ এর অবস্থা প্রতিমুহূর্তে ডিটোরিয়েট করছে.. ডক্টর বলেজেন ইনসুলিন দিয়ে সুগার না কমলে একমাত্র উপায় নার্সিংহোম, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। ইনফ্যাক্ট দ্বিতীয় রাউন্ডের ওষুধ কেনা আর ইনসুলিন কেনার সামর্থ্যও আমাদের নেই।” আহেলির হাতেও এই মুহূর্তে কোনো কাজ নেই। তিনি লিখছেন, “এইমুহূর্তে আমি জবলেস। বাড়িতে আরও তিনজনের আশা আমি। কিন্ত আমি নিরুপায়..অসহায়..দিকভ্রষ্ট।
মাত্র আট মাস আগে বাবাকে হারীয়েছি। ক্ষতটা এখনও শুকায়নি। আর আজ, প্রত্যেকটা সেকেন্ডে নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে এভাবে তিলতিল করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখতে পারছিনা। ভেতরটা কাঁপছে জাস্ট। হাতদুটো ধরে যখন কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারেনা,শুধু দুচোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে, বিশ্বাস করুন, খুব ডিফিকাল্ট।”এই জীর্ণ অবস্থার জন্যই আহেলি বাধ্য হয়েছেন মানুষের সাহায্য চাইতে। লকডাউনে সেভিংস শেষ। তাই করজোরে অনুরোধ,দয়া করে এগিয়ে আসুন।
Post a Comment