এখন করোনা মূর্তি বানিয়েই পেট চালাচ্ছে মৃৎশিল্পীরা
সেতু নিউজঃ লকডাউনে করোনার মূর্তি বানিয়ে উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছেন মানিকচকের বেশকিছু মৃৎশিল্পীরা । অদ্ভুত আকৃতির এই ভাইরাসের মূর্তি তৈরি দেখে হতবাক মানিকচক ব্লক পুলিশ ও প্রশাসন। মৃৎশিল্পীদের তৈরি করোনা ভাইরাসের মূর্তি এখন ট্যাবলো হিসাবে সচেতনতামূলক প্রচার করার ভাবনা চিন্তা করে ওই মৃৎশিল্পীকে বরাত দিয়েছে মানিকচক থানার পুলিশ । ইতিমধ্যে বেশকিছু মৃৎশিল্পীরা রুজি রোজগারের জন্য করোনা ভাইরাস আকৃতির যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বা সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে, তাকে অনুসরণ করেই বানানোর চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন।
এমনকি শিশুদের খেলার সঙ্গী কি এই করোনা ভাইরাসের পুতুল মূর্তি হতে পারে? তা ভেবেও মূর্তি বানানোর কাজ শুরু করেছেন বেশ কিছু মৃৎশিল্পীরা। যা দিয়ে নতুন করে রোজগারের পথ দেখছেন ওইসব শিল্পীরা। তাঁদের বক্তব্য, লকডাউনের জেরে সবই তো গেল। পয়লা বৈশাখের গণেশ পুজো থেকে শুরু করে বৈশাখের মঙ্গল চন্ডী মূর্তি , কালীমূর্তি অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি তৈরির বরাত জুটলো না। অর্ধাহারে দিন কাটছে তাঁদের।
তাই অনেকেই এখন করোনাভাইরাসের মূর্তি তৈরি করে নতুনভাবে বেঁচে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর গ্রামের মৃৎশিল্পী উজ্জ্বল দাস (৪০)। গত ১০ বছর ধরে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান ছাড়াও রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা ভাই-বোনেরা। গোটা পরিবার মৃৎশিল্পী রোজগারের উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি ঘিরে উপার্জন করে থাকেন উজ্জ্বলবাবু । কিন্তু করোনাভাইরাসের জেরে এখন সব বন্ধ। হাতে কোনও কাজ নেই । তাই নিজের থেকেই চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন , করোনা ভাইরাসের মূর্তি করলে কেমন হয় । যেমনি ভাবনা তেমনি কাজ শুরু।
এদিকে এরইমধ্যে গ্রামে পুলিশের টহলদারির সময় নজরে আসে উজ্জ্বলবাবুর তৈরি করোনা ভাইরাসের বিশাল আকার মূর্তি । লম্বায় প্রায় ৫ ফিট। মাটি , কাপড় দিয়ে রীতিমতো রঙের প্রোলেপে অনেকটা হুবহু সেই ভাইরাসের মতোই মূর্তি করে ফেলেছেন শিল্পী উজ্জ্বল দাস। পুলিশের নজরে আসতেই শুরু হয় এনিয়ে চর্চা। আর তারপরেই সেই মূর্তির ট্যাবলো বানিয়ে ব্লকের মানুষের কাছে সচেতনতামূলক প্রচার করা হবে বলে ভেবে নেই সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। পুলিশের এই ভাবনা থেকেই পৌঁছে যায় ওই মূর্তির সামান্য কিছু বরাত ।
যাতে কিছুটা হলেও হাসি ফুটেছে মৃৎশিল্পী উজ্জল দাসের। মৃৎশিল্পী উজ্জলবাবু বলেন , “হাতে কোনও কাজ নেই। লকডাউনের জেরে দেবদেবীর মূর্তি তৈরির বায়না কেউ দিচ্ছে না । তাই করোনা ভাইরাসের ছবি অনুসরণ করেই বাড়িতেই বড় ধরনের মূর্তি তৈরি শুরু করেছিলাম । কে জানে এই কাজে সফলতা আসবে । পুলিশ দেখে আমাকে যথেষ্ট পারিশ্রমিক দিয়ে মূর্তির বায়না করে গিয়েছে। উনারা করোনা সচেতনতায় এই মূর্তিকে সামনে রেখে ট্যাবলো তৈরি করে গ্রামে গ্রামে প্রচার চালাবেন।” মানিকচকের বেশকিছু মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, “আমাদের এখন ভাবনা শুরু হয়েছে, যদি ছোট ছোট এরকম করোনা ভাইরাস মূর্তি তৈরি করা যায়।
তাহলে হয়তো মানুষের মধ্যে কেনার আগ্রহটা কিছুটা বাড়বে । বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে । কারণ বিশ্বজুড়েই সকলের মুখে চলছে করোনা নিয়ে সমালোচনা। যা করার এখনই করতে হবে। হয়তো উপার্জনের করোনা ভাইরাসের মূর্তি আমাদের পথ দেখাবে।” মানিকচক থানার ওসি গৌতম চৌধুরী বলেন, “গ্রামে গ্রামে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একজন মৃৎশিল্পী কাছ থেকে করোনা মূর্তি আমরা তৈরি করিয়ে নিচ্ছি। সেটিকে ট্যাবলো করে গ্রামে ঘোরানো হবে।
Post a Comment