‘আত্মঘাতী’ পথে ছুটছে বাংলাদেশ
৬৬ দিনে বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ায় করোনা সংক্রমণ প্রবল হারে বাড়ছে। মৃত্যুর সংখ্যাও উর্দ্ধমুখী। এই পরিস্থিতিতে রবিবার থেকে শুরু হল গণপরিবহণ। বিশেষ করে নৌ পরিবহণে থিকথিক করছে ভিড়। সরকারি সিদ্ধান্তে সোমবার খুলবে সরকারি দফতর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এমন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। সেই দিকেই ছুটছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানায়, করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেথাকছে বাংলাদেশ।কোনওভাবে লকডাউন উঠলে আরও মারাত্মক হামলা হবে ভাইরাসের।
এদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা শনিবার পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৬০৮ জন। ৬১০ জন মৃত। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান রীতিমতো উদ্বিগ্ন। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে ৩১ মে থেকে সারা দেশের সব অফিস, দোকানপাট, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার সাধারণ ছুটি তুলে দিয়েছে, এমন যুক্তি মানতে নারাজ এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি বলেন, করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মৃত্যুহার কম হলেও প্রচুর মানুষ অসুস্থ হবে। একজন পজিটিভ হলে তাকে আপনি ২১ দিনের ছুটি দিতে বাধ্য। তার সংস্পর্শে আসা অন্যদের ছুটি দিতে হবে। তারা হয়তো মারা যাবেন না, কিন্তু তাদের কাছ থেকে সার্ভিসও তো নিতে পারবেন না।
তাহলে কীভাবে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে? বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের পর ২৬ মার্চ থেকে ছুটি ঘোষণা করা হয়। ৩০ মে পর্যন্ত ৬৬ দিন ছুটি রবিবারই শেষ হল। জনপ্রশাসন মন্ত্রকের নির্দেশে বলা হয়েছে, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।
Post a Comment