করোনা আক্রান্ত দাদা বাড়িতে অথচ নেগেটিভ ভাই চিকিৎসা্ধীন হাসপাতালে - The News Lion

করোনা আক্রান্ত দাদা বাড়িতে অথচ নেগেটিভ ভাই চিকিৎসা্ধীন হাসপাতালে




সেতু নিউজঃ    করোনা আক্রান্ত দাদা বহাল তবিয়তে বাড়িতে অথচ তাঁরই ভাই, যাঁকে করোনা ছুঁতেও পারেনি তিনি চিকিৎসা্ধীন  হাসপাতালে!  আশপাশে থিকথিক করছে করোনা আক্রান্ত রোগী। আর তার মাঝে পাঁশকুড়ার বড়মা হাসপাতালে একটি বেডে শুয়ে রয়েছেন কোভিড নেগেটিভ ভাই। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রামে। খবর রটতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুল্যান্স করে আক্রান্ত দাদাকে নিয়ে আসা হয়েছে হাসপাতালে। কিন্তু, এখনও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাননি কোভিড নেগেটিভ ভাই। গোটা ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা।





জেলাশাসক থেকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কেউই এ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন তোলেননি।  কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা? গত ৭ মে ওড়িশার সম্বলপুর থেকে পায়ে হেঁটে বাংলায় ফিরছিলেন রাজ্যের ছয় পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে তিনজন ছিলেন ঝাড়গ্রামের, বাকি তিনজন পশ্চিম মেদিনীপুরের। ৭ মে ওড়িশা-বাংলা সীমান্তে আসার পর তাঁদের মেডিক্যাল টেস্ট হয়। তারপর ঘাটালের শ্রমিকরা ফিরে যান ঘাটালে। আর ঝাড়গ্রামের শ্রমিকরা ফেরেন তাঁদের জয়নগর গ্রামে।





এরপর ১০ মে ফোন আসে ভাইয়ের কাছে। বলা হয়, আপনার বাড়িতে অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হচ্ছে, আপনার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আপনি হাসপাতালে চলে আসুন। দুরুদুরু বুকে পিপিই পরে অ্যাম্বুল্যান্সে উঠে পড়েন ভাই। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে বলা হয়েছিল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হবে, কিন্তু পরে নিয়ে যাওয়া হয় পাঁশকুড়ার বড়মা হাসপাতালে। এরপর গোটা, ৯ মে, ১০ মে হাসপাতালে তাঁর করোনার চিকিৎসাও চলে। কিন্তু ১০ তারিখ সন্ধেবেলা জানা যায়, যাঁর চিকিৎসা চলছে তিনি করোনা আক্রান্ত হননি। আসলে যিনি করোনা আক্রান্ত, তিনি রয়ে গিয়েছেন বাড়িতেই।





এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা। ঝাড়গ্রামের বিজেপি সাংসদ কুনার হেমব্রম বলেন, “জেলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বলে কিছু নেই, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। সুস্থ মানুষকে ফেলে রাখা হয়েছে করোনা আক্রান্তদের মাঝে, আর যার সত্যি সত্যিই চিকিৎসা দরকার তাঁকে ফেলে রাখা হয়েছে বাড়িতে। রাজ্যে কী চরম অরাজকতা চলছে এটা তারই প্রমাণ।” 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.