পশ্চিমবঙ্গ আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় আমফান
সেতু নিউজঃ শনিবার সকালে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। আর এই পূর্বাভাসের পর তৎপর হল রাজ্য সরকার। উপকূলবর্তী ২ জেলায় সাইক্লোন সেন্টারগুলিতে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান মজুত করতে শুরু করেছে প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এই দুই জেলার প্রশাসন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি এড়াতে নিচু এলাকাগুলির হাজার হাজার মানুষকে সাইক্লোন সেন্টারগুলিতে এনে রাখা হবে।
আমফান মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই এনডিআরএফ-এর দুটি দলকে পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। শনিবার সন্ধ্যাতেই তাঁরা রাজ্যে চলে এসেছেন। একটি দল মোতায়েন থাকবে সাগরদ্বীপে, আরও একটি কাকদ্বীপে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে তারা।
করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকায় সেখানেও মেনে চলতে হবে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের বিধি। সেজন্য সাইক্লোন সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভিড় এড়াতে বিভিন্ন স্কুলে রাখা হবে দুর্গতদের। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামিকাল রবিবার ঘূর্ণিঝড়টি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। পরে তা আরও শক্তি বাড়িয়ে অতি ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।
মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়ের গতি পৌঁছে যেতে পারে প্রতি ঘণ্টায় ১৭০-২০০ কিলোমিটার। স্থলভাগের দিকে যত এগবে, তার গতি কিছুটা কমে। তবে আছড়ে পড়ার সময় আমফান কতটা শক্তি বাড়াবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় “ইতিমধ্যেই সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মত্স্যজীবীদের।
সচেতন এবং সব রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছে।” ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে আমফান যদি এ রাজ্যের উপকূলে আছড়ে পড়ে, তা হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। ক্ষতি হতে পারে চাষের। একে করোনার জেরে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, তার উপরে আমফান যদি সরাসরি ছোবল মারে এ রাজ্যের উপকূল এলাকায়, তা হলে সঙ্কট আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে সেখান থেকে সরানো হতে পারে কয়েক লক্ষ উপকূলবাসীকে।
Post a Comment