দেখে নিন কেমন চলছে এবারের পুজোর বাজারের প্রস্তুতি
দি নিউজ লায়নঃ পুজোর বাকি আর বেশিদিন নেই। করোনার তৃতীয় ঢেউ ইতিমধ্যে চোখ রাঙাছে। এই পরিস্থিতিতে করোনা-বিধিকে কার্যত হেলায় উড়িয়ে ভিড় উপচে পড়ল শহরের বাজারগুলিতে। আর তার সঙ্গেই তাল মিলিয়ে জমে উঠেছে পুজোর বাজার।শপিংমল, বড় দোকান, ছোট দোকান আর ফুটপাথে ঘুরছেন লোকেরা। সপ্তাহের অন্যান্য দিন বাজার তেমন না জমলেও শনি, রবিবার দুপুর থেকে হাতিবাগান, নিউ মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। এবারও বিভিন্ন ধরনের পোশাকের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে। দোকানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনলাইনেও বিভিন্ন সংস্থা বাঙালিয়ানার কথা মাথায় রেখে আনছে সাবেকি পোশাক। সাবেকি পোশাকের পাশাপাশি ইন্দো ওয়েস্টার্নকেও বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা।
পুজোয় যেমন গরম থাকে সেরকমই বৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকে। তাই খুব ভারী বা জমকালো পোশাক পরা যায় না। আবার পুজোর পরেও, বছরের বাকি দিনগুলোতে যাতে পরা যায় এরকম পোশাকের দিকেই নজর থাকে বেশি। শাড়ির মধ্যে জামদানি, লিনেন জামদানি, ব্লেন্ডেড সিল্ক, সিল্ক ও হ্যান্ডলুম শাড়ির চাহিদা এখন বেশি রয়েছে। গড়িয়াহাটের আদি অক্ষয় অ্যান্ড কোম্পানির তরফে শ্যামল বসাক জানালেন, ‘১৩০০–১৪০০ টাকাতেও সিল্ক রয়েছে। আবার ৫ হাজার টাকার সিল্কের বিক্রিও ভালই। আমরা হোলসেলার, তাই কিছুটা কম দামে শাড়ি দিতে পারি।
’ শ্যামবাজারের তন্তুজের এক কর্মী জানিয়েছেন, ২২০০ টাকা থেকে পিওর সিল্কের শাড়ির দাম শুরু। গত বছরের তুলনায় এবছর সিল্কের চাহিদা বেড়েছে। ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে অনেকটা। অন্যদিকে হ্যান্ডলুম শাড়ি ১০০০ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে। জামদানি ১৪০০–১৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৪ হাজার বা ৫ হাজার টাকারও রয়েছে। কলেজ স্ট্রিটের আদি ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয়ের নিতাই সাহা জানিয়েছেন, ‘বাংলার তাঁতিদের তৈরি হ্যান্ডলুমের শাড়ি এখন বিদেশেও যাচ্ছে। রাজ্যে এর চাহিদা তো বরাবরই রয়েছে। ৫৭৫ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে এই শাড়ি, ৪৫০০ টাকারও রয়েছে।
এছাড়াও জামদানি শাড়ি ও লিনেনের শাড়ির বিক্রিও বেশ ভাল। ১০৫০ টাকা থেকে শুরু হচ্ছে জামদানি শাড়ি। এছাড়াও সুরাট থেকে জর্জেট, ক্রেপ, নেটের শাড়ি আসছে।’ শাড়ির পাশাপাশি লম্বা কুর্তি পালাজোর সেট এখন কিশোরী থেকে তরুণীদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। কম ঘেরের স্ট্রেট কাট পালাজো বেশ পছন্দ করছেন সকলেই, নামীদামি সংস্থা তাদের পোশাকের তালিকায় কুর্তি পালাজো সেট রাখছে। ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকারও রয়েছে এই পোশাক।
আবার গড়িয়াহাট, হাতিবাগানের ফুটপাথে এই পোশাক পাওয়া যাচ্ছে অনেকটাই কমে। সুতির পাশাপাশি মিক্সড কাপড়েরও কুর্তি–পালাজো বিক্রি হচ্ছে। পুরুষদের পুজোয় সাবেকি পোশাকে রকমফের এসেছে। পাঞ্জাবির পাশাপাশি এসেছে কুর্তা। তার সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে জ্যাকেট। তবে সুতি এবং উইভ করা পাঞ্জাবি–কুর্তার চাহিদা বেশি রয়েছে। গড়িয়াহাটের প্রিয় গোপাল বিষয়ীর তরফে সৌম্য লাহা জানালেন, ‘ছেলেদের নেহরু জ্যাকেট শুরু হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে। পাঞ্জাবি ৭০০ / ৮০০ টাকা থেকে।’ তবে এবছর পুজোয় ছোট ব্যবসায়ীদের বাজার কিছুটা খারাপ। যদিও বড় ব্যবসায়ীদের মতে আগের বছরের মতোই রয়েছে কেনাবেচা।
তবে হাতে আরও কয়েকদিন আছে। শনি ও রবিবার আছে। তাই দোকানিদের আশা হয়তো শেষ মুহুর্তে ভিড় জমার সঙ্গে সঙ্গে কেনাকাটাও জমবে। পুজোর সময়ের কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ ঘরে তুলতে পারবেন তাঁরা।

Post a Comment