পুজোর আগেই বাড়তে পারে জামা -কাপড়ের দাম
দি নিউজ লায়নঃ আমাদের দেশে তুলো খারিফ এবং রবি দুই মরশুমেই চাষ করা হয় ---উত্তর ভারতে চাষ হয় খারিফ মরশুমে এবং দক্ষিণ ভারতে রবি মরশুমে৷ তবে , বেশির ভাগ তুলো তোলার কাজটাই চলে এপ্রিল -মে মাস পর্যন্ত৷ কেননা চাষিরা বেশি মুনাফার জন্য তুলোর চাষ ছেড়ে বেশি করে ডাল চাষ করেছেন৷
কেননা , খোলা বাজারে ডালের দাম দীর্ঘদিন ধরে বেশ চড়া থাকায় , ডাল চাষেই বেশি লাভ দেখছেন চাষিরা "৷তুলোর দাম বাড়লে দেশের বস্ত্রবয়ন শিল্পে যুক্ত সংস্থাগুলি , বিশেষ করে রপ্তানিকারীরা , ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করে ইক্রা৷ ‘দেশের বাজারে তুলোর দামে হঠাত্ এই বৃদ্ধি আশাতীত৷ এত কম সময়ে দাম এতটা বেড়ে যাওয়ার অর্থ, বাজারে তুলোর জোগান যথেষ্ট কম৷ এ দিকে দেশের বাজারে জামা -কাপড়ের চাহিদা এ বছর বিশেষ না বাড়ায় রন্তানির উপরই বেশি করে নির্ভর করতে হচ্ছে বস্ত্র তৈরির সংস্থাগুলিকে৷ অথচ , রন্তানির বাজারও খারাপ৷ ফলে বাড়তে পারে পোষাকের দাম। এদিকে পুজো এসে গেছে। এই সময় বাজার ভেঙে পড়ে পুজোর কেনাকাটার ভিড়ে। গত বছর থেকে বদলেছে পরিস্থিতি। একদিকে করোনার চোখ রাঙানি, অন্যদিকে পকেটে টান। ব্যাগ ভরে পুজোর বাজার করা এখন অনেকের কাছেই কঠিন।
তবে পুজোর আবহে দোকানে দোকানে নিউ-ট্রেন্ডের রকমারি পোশাক আসতে শুরু করেছে। শুরু হয়ে গেছে ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে আলোচনা। পুজোর বাদ্যি বাজল বলে! করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা কিছুটা কমেছে। তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মধ্যেই এগিয়ে আসছে পুজো। একটু একটু করে ক্রেতার আনাগোনা দোকান-বাজারে। পসরা সাজাতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আশার মধ্যেও আশঙ্কার মেঘ ব্যবসায়ী মহলে। কারণ, সুতোর দাম বাড়ছে চড়চড়িয়ে। যার প্রভাবে দাম বেড়েছে রেডিমেড জামাকাপড়ের।
রেডিমেড পোশাক ব্যবসায়ী বিবেক বর্মন জানালেন, 'সুতোর দাম বেড়েছে। জামাকাপড়ের দাম বেড়েছে। উৎসবের মরসুমে। লোকজন ক্যাজুয়াল জামাকাপড়ের বেশি ঝুঁকছে। যে পোশাকের দাম ২০০ ছিল, তা ৩২৫ হয়েছে। লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় কর্মী আসতে পারেছ না।' ব্যবসায়ীদের দাবি, তুলোর দাম বাড়া-সহ আনুসঙ্গিক নানা কারণে সুতো অগ্নিমূল্য হওয়ার প্রভাব পড়ছে পোশাকের ব্যবসায়। এছাড়া পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। সূত্রের খবর, ছ’মাস আদে কেজি প্রতি যে সুতোর দাম ছিল ১৭০ টাকা তা বেড়ে হয়েছে ২৮০ টাকা।
১৬০ টাকার সুতো বেড়ে পৌঁছেছে ২৬০ টাকায়। ইন্ডিয়ান চেয়ার অফ কমার্সের চেয়ারম্যান টেক্সটাইল কমিটি, সুতো নির্মানকারী সংস্থার মালিক সঞ্জয় কুমার জৈন জানালেন, ৫০ শতাংশ দাম বেড়েছে সুতোর। কেন্দ্রীয় সরকার তুলোর ওপর ১০ শতাংশ আমদানি কর চলতি বছরের বাজেটে বাড়িয়েছে। লক ডাউনে দাম বেড়েছে। তুলোর দাম বাড়ায় বেড়েছে সুতোর দামও। শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। রেডিমেড গার্মেন্টসের দামে তার প্রভাব পড়েছে। সুতোর মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জুড়েছে করোনা আবহ ও শ্রমিক সমস্যা।

Post a Comment