কোভিড কি শুধু বিত্তশালীদের জন্য?
দি নিউজ লায়নঃ বর্তমানে মুখোশ সহিত একদিকে কভিড্ সমস্যা'র জন্য বাইরে সময় সাপেক্ষে বেরনো অন্যদিকে কর্মস্থল স্থিতিশীল এবং কর্মহীন অধিকাংশ মানুষ। সময়ে'র সাথে বয়সের খোলশ যেন অঙ্গীকার করে সূর্যাস্তের কোলে ঢলে পড়ে। কভিড্ কেড়ে নিয়েছে কত শত প্রাণ আর আপনজনকে। অনেকে হারিয়েছেন বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী- স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকাকে। এক অজানা আতঙ্কে প্রতি ক্ষনে,প্রতি প্রভাতে, প্রতি সাঁজে দিন কাটিয়েছে সাধারন মানুষ। বাতাসে ভেষে আসে সজন হারা বেদনার কান্না...
শূন্যতলে ফুটপাতে কিংবা স্টেশন চত্তরে খোলামেলা পরিবেশে টালি'র ছউনি কিংবা দরমা ঘেরা কাঠের অস্থায়ী ঘরে বিনিদ্র রজনী কাটান যাঁরা হয়ত তাঁদের হাতে মোবাইল নেই অথবা হাতে তা থাকলেও গোনা কয়েকজনের মুঠোতে আছে। বর্তমানে অনলাইন শিক্ষার আলো সেভাবে না পৌঁছানোর জন্য হয়ত ঠিক করে তারা মোবাইল অপারেট করতে পারেননা! তাই এই মারন ব্যাধি থেকে বাঁচার উপায় স্বরুপ সরকারের দেওয়া টিকা নেওয়ার জন্য কি ভাবে স্লট্ বুক করবে তারা বুঝতে পারছেন না ? কেও আবার মোবাইল অপারেটর করলেও সঠিক এর ব্যবহার প্রদ্ধতি জানেনা। তাই খুব সহজেই এই মারন ব্যাধি তাদের গ্রাস করে নিচ্ছে। বসন্তের শুকনো পাতার মত অকালে ঝড়ে পরছে তাদের জীবন। তাই অনেকের মনে একটাই প্রশ্ন বার বার ঘুরে আসে যারা এই স্লট্ বুক করতে পারবে না তাঁরা এই কভিড্ ভ্যাকসিন কি পাবে না ? যে মানুষগুলোর আশ্রয় ফুটপাতে খোলা আকাশের নিচে, যারা হয়ত ঠিক করে দু'বেলা দু'মুঠো খেতে পায় না যাদের কাছে সেনিটাইজার বা মাস্ক কেনার টাকা নেই তারা কি ভ্যাকসিন পাবেননা ?
এখন প্রশ্ন হল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার এই বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন ? ফুটপাতে শুয়ে দিনের পর দিন মাস্ক, সেনিটাইজার্ হীন হয়ে বিনা সুরক্ষায় যারা ধরাশায়ী হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন কভিড্ তাদের কাছে যেন তুচ্ছ জলভাত বলে মনে হচ্ছে। এদের কর্মশীল পরিশ্রমী জীবনে একটু একটু করে ঝড়ছে রক্ত। তবু এই গতিশীল জীবনে আমাদের কাছে সময় নেই এদের কথা শোনার মতো। দ্রারিদ্যশীল অসহায় শ্রম পিয়াসু মানুষ দেখলে মনে হবে এরা জীবন যুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে। এসি গাড়ি মাস্ক সেনিটাইজার্ এ ডুবে থেকে কেও কেও আবার ভয়ে সিঁথিয়ে থাকে। " যত ভয় পাইবে ভয় যেন তোমারে আষ্ঠে-পৃষ্ঠে বাঁধিয়া রাখিবে।" আসুন না! ভয়ে'র সথে আপোশ না জয়ের আঙ্গিকারবদ্ধ হই সবাই।
তাই বিশেষজ্ঞর মহলের একাংশ মনে করছেন এই কভিড্ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও একটা বছর লাগবে কিন্তু এভাবে দিনর দিন কর্ম বেকারত্ব বাড়বে কর্মঠ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ না পরিস্থিতি কে মেনে নিতে না পারবে উপেক্ষা করতে ? কর্ম না থাকলে না থাকবে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পরিকাঠামো রাজকোষ। বিশ্ব বাজারেও মন্দা পরিস্থিতির সম্মুখীন আমরা সকলেই।

Post a Comment