অবশেষে কাবুল থেকে ফিরলেন অশোকনগরের অজয় মজুমদার
দি নিউজ লায়ন; অবশেষে কাবুল থেকে ফিরলেন অশোকনগর ও গোপালনগরে চার জন । কাবুলে আটকে পরা ঠিক চার মাস আগে হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ে কাজে যান অজয় মজুমদার। কাজ করতে করতেই বিপত্তি। কাবুলে তিনি আটকে পড়েছিলেন আর্মিদের ক্যাম্পে। আজ ভোরবেলা বাড়ি ফিরে আসায় আনন্দে উচ্ছ্বসিত অজয় মজুমদারের বাড়ির পরিবার।মিস্টি মুখে আনন্দ উৎসব অশোকনগরের বনবনিয়াতে। গতকাল রাতেই আফগানিস্তান থেকে কলকাতায় পা রাখেন তিনি।
হোটেল ম্যানেজমেন্ট করে মার্কিন সেনাদের জন্য কাজ করতে আফগানিস্তান গিয়েছিলেন আর পাঁচ জনের মত অজয় মজুমদার। গতকাল মধ্য রাতে বাড়ি ফেরার পর আজ বাড়িতে আগাম শারদোৎসব। মিস্টি মুখ আর আত্মীয় পরিজনদের আফগানিস্তানের কাহিনী বলতে হচ্ছে বারবার। অন্যদিকে, তালিবান উপদ্রুত কাবুল থেকে দিন তিনেক আগে কাতারে চলে এসেছিলেন গোপালনগরের তিন যুবক। শেষে সোমবার ভোরে কাতার থেকে দিল্লিতে ফিরেছেন তারা।
এদিন রাতেই দমদম বিমানবন্দরে এসে পৌছবেন । এয়ারপোর্ট থেকে এদিন গভীর রাতেই গোপালনগরের বাড়িতে চলে আসবেন বিদ্যুৎ বিশ্বাস, পলাশ সরকার এবং প্রবীর সরকাররা। তালিবানদের চোখ রাঙ্গানির দেশ থেকে পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে বেজায় খুশি হয়েছেন তারা।বছর আড়াই আগে ক্যাটারিংয়ের কাজ নিয়ে কাবুলিওয়ালার দেশ কাবুলে গিয়েছিলেন বিদ্যুৎ, পলাশ, প্রবীর এবং জয়ন্ত বিশ্বাসরা। তারা সেখানে আমেরিকার ন্যাটো বাহিনীর রান্নার কাজ করতেন।
এত বছর সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল।কিন্তু গত রবিবার তালিবানরা কাবুল দখলের পরেই সেখানকার পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। গোপালনগরের চার যুবকই আটকে ছিলেন ন্যাটো বাহিনীর ক্যাম্পে। বাইরে তালিবানি আগ্রাসন,দাপাদাপি, গুলি,বোমার শব্দে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠলেও আমেরিকান সেনা ক্যাম্পে বিদ্যুৎ,প্রবীর এবং পলাশরা নিরাপদেই ছিলেন।কিন্তু দেশে ফেরার জন্য তারাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।সুদুএ গোপালনগরের বাড়িতে বসে তাদের পরিবারের লোকজনরাও বেজায় দুঃশ্চিন্তায় পড়েছিলেন।ছেলের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় নাওয়া খাওয়া ভুলেছিলেন পরিবারের লোকজন।
শেষে দিন তিনেক আগে ন্যাটো বাহিনীর সাহায্যে আর অন্যান্য ভারতীয়দের সাথে গোপালনগরের বিদ্যুৎ বিশ্বাস,পলাশ সরকার এবং প্রবীর সরকার কাতারে এসে পৌছেছিলেন।সেখানেও অপেক্ষার পর এদিন ভোর পাচটায় দিল্লির বিমানবন্দরে এসে পৌছান তারা।সারাদিন দিল্লির বিমানবন্দরেই ছিলেন তারা শুধুমাত্র জয়ন্ত বিশ্বাস এখনও কাবুলেই রয়ে গিয়েছেন।এদিন রাত ৮ টা ২০ মিনিটে দিল্লি থেকে কলকাতার বিমানে উঠবেন তারা।
দমদম বিমানবন্দরে গোপালনগরের তিন যুবক এসে পৌছান রাত প্রায় সাড়ে দশটায়। এয়ারপোর্টেই তাদের নিতে গোপালনগরের রামশংকরপুর থেকে তাদের আত্মিয়রা এসেছিলেন।তাদের সাথেই এদিন গভীর রাতে বাড়িতে গিয়েছেন তারা। দেশের মাটিতে ফিরতে পেরে বেজায় খুশি হয়েছেন তারা।বিদ্যুৎ বিশ্বাস বলেন আমরা ক্যাম্পেই ছিলাম।আমেরিকার সেনাদের ঘেরাটোপে থাকায় নিরাপদেই ছিলাম।কিন্তু তালিবানিদের দাপাদাপিতে ফেরাটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম।পরিবারের লোকজনরাও উদ্বিগ্নতার মধ্যে ছিলেন।এখন দেশে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।পলাশ সরকার বলেন ক্যাম্পের বাইরে গুলির শব্দ শুনতে পেতাম।কিন্তু তালিবানরা আমেরিকার সেনাদের ক্যাম্পে ঢোকার সাহস দেখায় না।

Post a Comment