গল্পঃ মঙ্গল যাত্রা - The News Lion

গল্পঃ মঙ্গল যাত্রা

   



ময়ূখ বসুঃ আজ দিনটা খুব উজ্জ্বল সূর্য থেকে প্রচন্ড করা তাপ এসে পৌঁছাচ্ছে গ্রহের এই সীমাহীন ভূত্বকের উপর। এই গরমের মধ্যে কিউমিটার চালিয়ে বসলাম ঘরে। এই যন্ত্রটি বাইরের করা উষ্ণ বায়ুকে শীতল করে ঘরের মধ্যে পাঠায় জার ফলে ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। হটাৎ দেখি কে যেনো এসে কড়া নারলো দরজায়। তড়িঘড়ি উঠে দরজা খুলতেই দেখি দরজার সামনে হতে মিষ্টির ভার নিয়ে আমার বাবা দাঁড়িয়ে। বাবাকে দেখে খুব খুশি হলাম, সেই যখন আমার বয়স ছিল ২১ বছর তখন বহির রাজ্যে এক বিরাট কোম্পানি থেকে আমন্ত্রণ পত্র আসায় পরিবার ও বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিলাম পিন্দলিতে।


 এখন আমার বয়স ৩৩ বছর, দীর্ঘ ১২ বছরের পর আজ ফের দেখা বাবার সথে। বাবাকে ঘরের মধ্যে ডেকে সোফায় বসিয়ে এমেসটিক -২৫০ - কে ডেকে পাঠালাম ২ কাপ চায়ের ব্যবস্থা করার জন্য। এমেসটিক - ২৫০ হলো আমার একটা রোবট তার কাজ আমি যা যা বলবো আমার আদেশ পালন করা । এবং সে এই কাজে দখ্যও বটে। জেরোম বলা সেরোম কাজ বলার ২ মিনিটের মধ্যেই টেবিলে হাজির দুই গ্লাস গরম গরম মসলা চা। আমি এবং বাবা কিউমিটারের তলায় বসে গরম চা খাওয়া শুরু করলাম। তখন বাবা হটাৎ বলে উঠলো উফ কি গরম পড়েছে আমরা যখন ছোটো ছিলাম তখন সূর্যের আকৃতি এখনের থেকে অনেক ছোটো ছিল। বাবার কথা শুনে রীতিমত বিষম খেলাম,



তারপর তড়িঘড়ি জিজ্ঞাসা করলাম বাবাকে: তোমরা যখন ছোটো ছিলে তখন সূর্যের আকৃতি আরো ছোটো ছিল মনে সূর্যের আকৃতি কি দিনে দিনে বাড়ছে নাকি।
বাবা বললেন: হুম এটা সত্য, সূর্যের আকৃতি বাড়ছে দিনে দিনে, সময়টা আজ থেকে বহু বছর আগের তখন আমার বয়স মাত্র ১৬ বছর আমার জন্ম পৃথিবী নামক এক গ্রহে।
বাবাকে থামিয়ে আমি জিজ্ঞাসা করলাম: পৃথিবী? এরম তো কোনো গ্রহের নাম শুনিনি কখনো, আর তোমার জন্ম যদি পৃথিবী নামক গ্রহে হয় তাহলে আমরা কি এলিয়েন বাবা?
বাবা বললেন এলিয়েন না আজ এই মঙ্গল গ্রহে যতজন রয়েছে প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো পূর্ব পুরুষ পৃথিবীর থেকে এসেছে।
আমি: তাহলে তোমরা সকলে যখন পৃথিবী তে থাকতে তাহলে মঙ্গল আসার কারণ কি ছিল বাবা।
বাবা: মঙ্গলে আসার কারণ আমরা নিজেরাই, আমাদের পৃথিবী পুরো গেলাক্সির সবথেকে সুন্দর গ্রহ ছিল কিন্তু এই সুন্দর গ্রহটাকে আমরা গাড়ির ধোয়া যন্ত্রপাতি জল অপচয় শব্দদূষণ প্রভাতী কারণে নষ্ট করে দিয়েছি।



আমি: কিন্তু তোমার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে পৃথিবীর অস্থিত্ব কোথায়?
বাবা: এখন আর এই গ্রহের কোনো অস্থিত্ব নাই। সূর্য নিজের আকার বৃদ্ধি করতে করতে গ্রাস করে পৃথিবী সহ তার পার্শ্ববর্তী আরো বহু গ্রহ উপগ্রহকে।
আমি: তাহলে তোমরা এই গ্রহের সন্ধান কি করে পেলে?
বাবা: আমাদের এই পৃথিবী ধ্বংসের আভাস বিজ্ঞানীরা পাওয়া মাত্রই সকল বিজ্ঞানীরা নেমে পড়েছিলেন মিশন বিরলা তে এই অভিযানের উদ্যেশ্য ছিল মানুষের বসবাসের জন্য দ্বিতীয় পৃথিবীর সন্ধান করা। এবং শেষমেশ বিজ্ঞানীরা এতে সক্ষম হন তারা আবিস্কার করেন মঙ্গলের যেটা অনেকটাই পৃথিবীর সমতুল্য।
আমি: তারপরই কি আমরা চলে এলাম এই গ্রহে বাবা?
বাবা: না, এটাতো ছিল এই অভিযানের শুরু মাত্র এখনও অনেক বাধা অপেক্ষারত ছিল বিজ্ঞানীদের চ্যালেঞ্জ করার জন্য। বিজ্ঞানীরা পৃথিবী তুল্য গ্রহতো আবিস্কার করে ফেলেছিল কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় এই গ্রহে মানুষের বসবাসের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ অক্সিজেন নাই তাছাড়াও নাই কোনো প্রকার বায়ু মন্ডল এবং এই গ্রহে যে বরফ ছিল বায়ুমণ্ডল না থাকায় সূর্যের প্রখর তাপে তা জল না হয় বরফ থেকে গোল বস্পে পরিণত হতো।
আমি: তাহলে আমরা এই গ্রহে এলাম কি করে?



বাবা: বিপদ থাকলে যেমন তার থেকে বাচার উপায়ও থাকে সেরকমই বিজ্ঞান জগতে আমাদের নতুন জীবন দেওয়ার জন্য সকল প্রশ্নের উত্তর হয় আমাদের সকলের সামনে এলো বিজ্ঞানী ড. পিন্টু দাস।
রোগা চেহারা মুখ ভর্তি দাড়ি, মাথা ভরা সাদা চুলের মধ্যে দিয়ে মাঝে মধ্যে উকি মারে দুই একটা কালো চুল, চোখে একখানি অর্ধোভঙ্গ চশমা রাশভারী চেহারা এটাই হলো তার পরিচয়। তিনি প্রথম পরিকল্পনা করেন যে মঙ্গল গ্রহে ২০০০ টনের একটি নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ করবেন। তার মতে যদি পরমাণু বিস্ফোরণ করানো হয় মঙ্গলে তাহলে পরমাণু থেকে নিষ্কৃত রেডিয়েশন মঙ্গল গ্রহের তাপমাত্রার সমস্যাকে অনেকটাই কমাবে, এছাড়াও শুধু তাপমাত্রা নয় পরমাণু থেকে নিষ্কৃত বিভিন্ন গ্যাস মঙ্গলের পরিবেশে মিশে তৈরি করবে এক নতুন বায়ুমণ্ডল এবং বায়ুমণ্ডলের ফলে বরফ বস্ফিভূত না হয় জলে পরিণত হবে এবং আমরা যদি সেই জলে পৃথিবী থেকে বিভিন্ন অক্সিজেন উৎপন্নকারি সৈবল নিয়ে ছেড়েদি তাহেল তারা নিজেরাই সেখানে বংশ বৃদ্ধি করে নেবে এবং অক্সিজেন এর জোগাড় দেবে। কিন্তু অন্য বিজ্ঞানীরা তার কথা শুনতে নাড়াজ। তাদের মতে পরমাণু বিস্ফোরণের ফলে গ্রহ ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে পারে তাই এটা সম্ভব নয়।



আমি: তাহলে এই অসম্ভব কাজটাকে বিজ্ঞানীরা সম্ভব কি করে করলো?
বাবা: স্যার পিন্টু যখন বুঝলো তার এখানে কেউ সঙ্গ দেবে না তখন সে তার তিনটি বাড়ি বিক্রি করে এবং সকল গাড়ি বিক্রি করে নিজেই লেগে পড়লো এই অভিযানের উদ্যশে কিন্তু তাও একাধিক বার নিজের আবিষ্কারে ফেল হওয়ায় সরকার থেকে ঠিক করলো এই এক্সপেরিমেন্ট এখানেই বন্ধ করবে। 

আমিঃ তাহলে কি করে আমরা এসে পৌছালাম এই গ্রহে? 

বাবাঃ সরকার থেকে এই অভিযান বন্ধ করতে যাবে ঠিক এই সময়েই শুরু হল এক বিধ্বংসী ঘটনা। দিনে দিনে নিজের আক্রিতি বারাতে শুরু করল সূর্য । অবশেসে সেই দিনটি এসে করা নারলো সকল পৃথিবী বাসির দরজায় সূর্যের তাপ দাঁড়ালো ৬৬ ডিগ্রিতে, আস্তে আস্তে পৃথিবী মানবজাতির বসবাসের অনুপযোগী হতে শুরু হল। কোনো বিজ্ঞানীরা কিছু না করতে পারায় সরকার শেষমেশ বাধ্য হয় হাজির হল  প্রফেসর পিন্টুর বাড়ীতে। তারপর শুরু করা হল সেই অভিযান। এবং ভাগ্যক্রমে এবার তা সফল হল এবং এই ভাবেই মঙ্গল মানুষের বসবাসের উপযোগী হয় দাঁড়ালো


আমিঃ বাহ, আমাদের ইতিহাসটা এত জটিল তা জানাছিল না। আচ্ছা বাবা তুমি অনেক দূর থেকে এসেছ অনেক ক্লান্ত একটু আরাম করে নাও, আমার অফিসের সময় হয় এসেছে আমি অফিসে জাই। আর বাকি পরের গল্পটা কিন্তু আমি অফিস থেকে ফিরলে তমায় বলতেই হবে।


পরের গল্প আসবে মঙ্গল বাস পর্ব ২ এ......।।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.